ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার যেকোনও উদ্যোগ বলপ্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিহত করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে গাজায় যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা প্রস্তাব অনুযায়ী গাজা উপত্যকা থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করা হচ্ছে না বলেও জানান তিনি। মঙ্গলবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টেলিগ্রামে নিজের অ্যাকাউন্টে শেয়ার করা একটি ভিডিওতে এসব কথা বলেন নেতানিয়াহু। ভিডিওটি হোয়াইট হাউসের ধারণ করা হয়েছিল।
ভিডিওতে, নেতানিয়াহুর কাছে জানতে চাওয়া হয়, তিনি কি ‘ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রে সম্মতি দিয়েছেন?’ জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, ‘না, একেবারেই না।’ নেতানিয়াহু বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উপস্থাপিত ২০ দফা পরিকল্পনায় এ ধরনের কোনও ধারা নেই এবং ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের প্রচেষ্টা ‘বলপ্রয়োগ করে হলেও প্রতিরোধ করবে’ ইসরায়েল।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) সদস্যদের প্রত্যাহারের জন্য চাপের মুখোমুখি হয়েছেন বলে সমালোচকদের মন্তব্যের জবাবে তিনি আরও বলেন, ‘তারা বারবার বলছে, আমাদের হামাসের শর্ত মেনে নিতে হবে। সব সেনা সরিয়ে নিতে হবে। গাজা থেকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বেরিয়ে গেলে হামাস আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারবে, এমনকি উপত্যকাকে পুনর্গঠনও করতে পারবে... এটা ঘটছে না।’
ভিডিওতে নেতানিয়াহু জানান, ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, হামাস যদি গাজা সংক্রান্ত তার ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করে, তাহলে তিনি ইসরায়েলকে পূর্ণ সমর্থন দেবেন। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘হামাস ধ্বংসের জন্য সামরিক অভিযান সম্পন্ন করা হবে। আমার মনে হয়, সবদিক থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে আমার এই সফর সফল হয়েছে।’
মঙ্গলবার সকালের দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতানিয়াহু হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন। ভিডিওতে নেতানিয়াহু ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একসঙ্গে দেখা যায়।
পৃথক একটি পোস্টে নেতানিয়াহু গতকাল হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠকের একটি মুহুর্তের ভিডিও শেয়ার করেন। ভিডিওর শুরুতে দেখা যায়, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী একটি বইয়ে লিখছেন, ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, (নিঃসন্দেহে) হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় বন্ধু এবং অনেক দিক থেকে তিনি সেরা!’
সোমবার হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পরই গাজা শান্তি পরিকল্পনার ঘোষণা করেন ট্রাম্প। এতে গাজায় দুই বছর ধরে চলা যুদ্ধ থামিয়ে সেখানে শান্তি ফেরার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এই পরিকল্পনার অনুযায়ী, গাজায় তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, বন্দি মুক্তি এবং গাজায় একটি নতুন সরকারের রোডম্যাপ দেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয়েছে, যদি হামাস এতে সম্মত হয় তবে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সব জীবিত ও মৃত জিম্মিকে মুক্তি দেবে। একই সঙ্গে গাজায় একটি অন্তর্বর্তী প্রশাসন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে; যা যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও কয়েকটি আরব দেশ নিয়ে গঠন করা হবে, যার মূল দায়িত্বে থাকবেন ট্রাম্প। এছাড়াও গাজার মানুষ গাজাতেই থাকবেন। তাদের অন্য কোনো দেশে জোরপূর্বক পাঠানোর চেষ্টা করা হবে না। হামাসের ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তির মাধ্যমে গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি শুরু হবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, গাজা ও হামাসকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্রকরণ করা হবে। আর এই কাজে সহায়তা করবে আরব দেশগুলো। তারা হামাসকে নিরস্ত্রকরণে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলেও দাবি করেছেন তিনি। এছাড়া সুড়ঙ্গসহ হামাসের সব অবকাঠামো ধ্বংস করা হবে।
সূত্র: বিবিসি
এসজেড