ঢাকা | বঙ্গাব্দ

নেত্রকোনায় স্বল্প সুদের ঋণের ফাঁদে কোটি টাকা হাতিয়ে নিল প্রতারক চক্র

অফিসের কোনো অস্তিত্ব না পেয়ে থানায় অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীরা। পুলিশ বলছে, সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তাদের খোঁজ করা হচ্ছে।
  • নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৪ আগস্ট, ২০২৫
নেত্রকোনায় স্বল্প সুদের ঋণের ফাঁদে কোটি টাকা হাতিয়ে নিল প্রতারক চক্র আর্থিক প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগীরা।

স্বল্প সুদে ঋণ দেয়ার প্রলোভনে নেত্রকোনার বারহাট্টায় বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি চক্র। ভাড়া বাসা নিয়ে অফিস দেখালেও এক সপ্তাহেই উধাও অফিসসহ সমিতি করে দেয়া ‘গণজাগরণ সমাজ কল্যাণ সংস্থা’ নামে সংগঠনের নিয়ে যাওয়া যুবকরা।


অফিসের কোনো অস্তিত্ব না পেয়ে থানায় অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীরা। পুলিশ বলছে, সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তাদের খোঁজ করা হচ্ছে। এদিকে সমাজ সেবায় পাওয়া যায়নি এমন কোনো সংগঠনের নামও।


নেত্রকোনা জেলার বারহাট্টা উপজেলার সাহতা ইউনিয়নের ছলিপুড়া গ্রামে আগস্টের প্রথম সপ্তাহের মাত্র ৫ দিনে এনজিও সেজে কয়েক লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার ঘটনা ঘটে গেছে। ওই গ্রামের নারীদেরকে এক বছরে মাত্র ১০ হাজার টাকা সুদে লাখ টাকা ঋণ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া সংস্থাটির হদিস মিলছে না। একজনকে সভাপতি করে ৫ জন করে সদস্য করে সমিতির বই করা প্রত্যেকে ভিন্ন ভিন্ন পরিমাণের টাকাও জমা দিয়ে দেন। এভাবে একটি মহল্লার অসংখ্য জনের কাছ থেকে বুধবার-বৃহস্পতিবার টাকা তুলে শুক্রবার থেকে বন্ধ করে দেন মোবাইল নম্বরটিও।



সেই সঙ্গে ঠাকুরাকোনা বাজার এলাকায় আনোয়ার প্লাজায় ভাড়া নেয়া এক বিজিবির বাসা থেকেও অফিসটিও উধাও হয়ে পড়ে। কেউ জানে না এরা কোথা থেকে আসলো আর কোথায়ই বা গেল। অথচ ঋণ গ্রহীতাদেরকে অফিস এবং আসবাবপত্র দেখিয়ে রেজিস্ট্রার খাতা করে খাতায় মো. আরিফুল ইসলাম নামসহ একটি নম্বর লিখে দেয়া চক্রটির ফোন খোলা পায়নি কেউ।


এ ঘটনা জানাজানি হলে পাশের বাইশদার, কদমদেওলি, বাউসি ও ঠাকুরাকোনাসহ আরও বেশ কিছু এলাকায় এমন ঘটনার খবর পাওয়া যায়। তখন বেরিয়ে আসে একটি ভিডিও। যেখানে দেখা যায় দুজন বসে সমিতি নিয়ে আলোচনা করতে। তবে সরেজমিন ঘুরে তাদের কোনো অস্তিত্বই পাওয়া যায়নি।


স্থানীয়দের দাবি, এলাকার সাবেক এক বিডিআরের বাসায় অফিস দেখে তারা বিশ্বাস করেছিলেন। তবে যে বাড়িতে ভাড়া দেয়া হয়েছিলো তারা প্রথমে কথা বলতে রাজি না হলেও পরে জানায় তাদের সঙ্গে কোনো লেনদেন হয়নি। তারাও ভাড়ার টাকা পাওয়ার আগেই চলে গেছে।


এদিকে মিলন ও মুন্নাসহ কয়েকজন ভুক্তভোগীর দাবি প্রতারক চক্রটিকে আইনের আওতায় আনার।


আনোয়ার প্লাজার মালিকের ভাই মনোয়ার হোসেন জানান, তাদের সঙ্গে কোনো চুক্তি হয়নি। শুধুমাত্র ভাড়া নেবে বলেছিল।


জেলা সমাজ সেবার সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জানান, সমাজসেবার আওতায় ৭০০ মতো সংগঠন থাকলেও আমরা দেখেছি জেলায় এই নামে কোনো সংগঠন নেই। সমাজ সেবার নাম ভাঙিয়ে যদি কেউ প্রতারণা করে এমন অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। আমরা সার্চ করে দেখেছি, সমাজ সেবার ওয়েবসাইটেও সক্রিয় নিষ্ক্রিয় কোনো তালিকায় এমন নাম নেই।


নেত্রকোনা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাহেব আলী পাঠান বলেন, ‘প্রতারণার এমন একটি অভিযোগ পেয়েছি। সবোর্চ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। এর আগেও কেন্দুয়া থানায় এমন ঘটনা ঘটেছে। আমরা সেটি আইনের আওতায় নিয়েছি। এটিও ক্ষতিয়ে দেখা হচ্ছে। যারাই এর সঙ্গে জড়িত থাকুক আইনের আওতায় আনা হবে।’


পাশাপাশি তিনি নেত্রকোনার মানুষ জনদেরকে সচেতন থেকে কেউ আসলেই যাচাই বাছাই না করে টাকা পয়সা না দেয়ার অনুরোধ করেন।


নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার ৫টি গ্রামের অর্ধশত মানুষের কাছ থেকে ভিন্ন ভিন্ন পরিমাণের অন্তত ২০ লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেয় গণজাগরণ সমাজ কল্যাণ সংস্থা নামে এনজিও। জেলায় প্রায় ৭০০ আর্থিক সহায়তা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।


thebgbd.com/NIT