আফগানিস্তানের ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৪০০ জন ছাড়িয়ে গেছে বলে নিশ্চিত করেছে তলেবান সরকার। এছাড়া আরও কমপক্ষে ৩ হাজার ১২৪ জন আহত এবং শত শত মানুষ এখনো ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে আছে বলে জানিয়েছে কতৃপক্ষ।
মঙ্গলবার তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ এক্সে পোষ্ট করা এক বিবৃতিতে বলেছেন, ভূমিকম্পে কমপক্ষে ১৪১১ জন নিহত এবং কমপক্ষে ৩২৫২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। শক্তিশালী এই ভূমিকম্পে ৫৪০০ টিরও বেশি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে।
জাতিসংঘ মানবিক সংস্থার প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার গভীর রাতে পূর্ব আফগানিস্তানে আঘাত হানা ছয় মাত্রার এই ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে এই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের সবচেয়ে কাছে অবস্থিত পাহাড়ি কুনার প্রদেশে। দুর্গম এবং পাহাড়ি এলাকাটিতে উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে। হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত এসব এলাকায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন উদ্ধারকারীরা।
কুনার প্রদেশের দুর্যোগ মোকাবিলা দপ্তরের প্রধান এহসানউল্লাহ এহসান বার্তাসংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ১৪০০ জনের বেশি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, তবে এই সংখ্যা আরও বাড়বে। কারণ ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কত মরদেহ আটকে আছে— আমরা এখনও জানি না।’
দুর্যোগ মোকাবিলা দপ্তরের উদ্ধারকর্মীরা সাধ্যমত সর্বোচ্চ গতিতে তৎপরতা চালাচ্ছেন উল্লেখ করে এহসান বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য যত শিগগির সম্ভব উদ্ধার তৎপরতা শেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে খাদ্য ও ত্রাণের বিতারণ শুরু করা।’
কুনারের আসাদাবাদ এলাকার প্রাদেশিক হাসপাতালে কর্মরত একজন চিকিৎসক বলেন, ‘হাজার হাজার মানুষ তাদের ঘরবাড়ি হারিয়েছেন। আমাদের তাঁবু দরকার। আমাদের ওষুধ দরকার। রেড ক্রস সহায়তা দিচ্ছে, কিন্তু আমাদের আরও সাহায্যের প্রয়োজন।’
ভূমিকম্পে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার এই বাসিন্দা জানান, তার ছোট হাসপাতালেই ২০০ জনেরও বেশি মানুষকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। কিছু দেশ এই দুর্যোগ পরিস্থিতিতে ত্রাণ সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও, ‘এখনও পর্যন্ত আমরা কিছুই পাইনি। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত তালেবানের সঙ্গে তাদের যেকোনো মতপার্থক্য দূরে সরিয়ে আফগানদের সাহায্য করা এবং সাহায্য পাঠানো।’
অন্যদিকে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত কুনার প্রদেশ খুবই রক্ষণশীল হওয়ায় ওই এলাকার নারীদের চিকিৎসা সাংস্কৃতিক কারণে বিলম্বিত হতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে। আফগানিস্তানে কঠোর তালেবান নিয়ম এবং পুরুষতান্ত্রিক ঐতিহ্যের কারণে নারীদের ভ্রমণ, কাজ, এমনকি অনেক পরিষেবা পাওয়ার জন্য আইনত এবং সামাজিকভাবে একজন পুরুষ অভিভাবক থাকা বাধ্যতামূলক।
সূত্র: আলজাজিরা
এসজেড