ঢাকা | বঙ্গাব্দ

সম্পর্ক বিকশিত করার আশা

কেসিএনএ জানিয়েছে, কিম বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উত্তর কোরিয়ায় ফিরে যাওয়ার জন্য তার ব্যক্তিগত ট্রেনে বেইজিং ত্যাগ করেছেন’।
  • অনলাইন ডেস্ক | ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
সম্পর্ক বিকশিত করার আশা শি জিনপিং ও কিম জং-উন।

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে বলেছেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে অবিচলভাবে বিকাশ করাই তার ‘অটল ইচ্ছা’। বেইজিংয়ে দুই নেতার বৈঠকের পর শুক্রবার পিয়ংইয়ংয়ের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা (কেসিএনএ) এ কথা জানিয়েছে। বেইজিং থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।


পিয়ংইয়ংয়ের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা (কেসিএনএ) জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চীনের রাজধানীর গ্রেট হল অফ দ্য পিপলে দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হয়। ওই আলোচনায় কিম দুই দেশের মধ্যে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ অনুভূতির’ কথা নিশ্চিত করেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র চীনে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের বিরল এই বিদেশ সফরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির ৮০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিশাল সামরিক কুচকাওয়াজে সি চিনপিংয়ের সাথে রাশিয়ার ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে যোগ দেন।


কিমকে উদ্ধৃত করে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ জানায়, উত্তর কোরিয়া-চীন সম্পর্ককে স্থিতিশীলভাবে উন্নীত করা ডব্লিউপিকে (কোরিয়ার ওয়ার্কার্স পার্টির) এবং সরকারের দৃঢ় ইচ্ছা। এটি উত্তর কোরিয়া ও চীনের মধ্যে সম্পর্ককে আরো উন্নত করার সরকারের দৃঢ় ইচ্ছাকেই প্রকাশ করে।


কেসিএনএ জানিয়েছে, তিনি সি'কে বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি যতই পরিবর্তিত হোক না কেন চীন ও উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক পরিবর্তন হতে পারে না’। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে কিমের প্রতি সি'র মন্তব্যের প্রায় হুবহু প্রতিধ্বনি।


১৯৫০-এর দশকে কোরীয় যুদ্ধের রক্তপাতের মধ্য দিয়ে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে চীনের সম্পর্ক গড়ে উঠে এবং বিচ্ছিন্ন পারমাণবিক রাষ্ট্রটির জন্য কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক সমর্থনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হল বেইজিং। তবে পিয়ংইয়ং সম্প্রতি রাশিয়ার আরও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। গত বছর দুই দেশ একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে এবং উত্তর কোরিয়ার সেনারা ইউক্রেন যুদ্ধে লড়াই করছে।


বৃহস্পতিবার কিম বলেন, পিয়ংইয়ং তার সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং উন্নয়ন স্বার্থ রক্ষায় চীনের অবস্থান ও প্রচেষ্টাকে ‘অবিচ্ছিন্নভাবে সমর্থন এবং উৎসাহিত’ করবে।


চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, শি কিমকে বলেছেন যে দুই দেশের উচিত আন্তর্জাতিক বিষয়ে সমন্বয় জোরদার করা এবং ‘তাদের অভিন্ন স্বার্থ রক্ষা করা’। কিম মঙ্গলবার তার মেয়ে কিম জু এই-কে নিয়ে বেইজিংয়ে পৌঁছেন। এটি ছয় বছরের মধ্যে তার দ্বিতীয় বিদেশ সফর এবং ২০১৯ সালের পর প্রথম চীন সফর।


বৃহস্পতিবার চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারক সিসিটিভির দেওয়া একটি ভিডিওতে কিম বলেন, ‘ছয় বছর পর চীন সফরে এসে, চীন কীভাবে রূপান্তরিত হয়েছে এবং স্বীকৃতির বাইরেও উন্নত হয়েছে তা দেখে গভীরভাবে মুগ্ধ হয়েছি। যা বদলায়নি তা হল উষ্ণ অভ্যর্থনা, বিশ্ব যতই বদলে যাক না কেন, উত্তর কোরিয়া ও চীনের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্ব অটুট থাকবে।’


ভিডিওটিতে, সি ২০১৯ সালে তার নিজের উত্তর কোরিয়া সফরের কথাও স্মরণ করে বলেন, তিনি যেখানেই গেছেন সেখানেই ‘দৃঢ় আত্মীয়তার অনুভূতি’ অনুভব করেছেন। কেসিএনএ জানিয়েছে, কিম বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উত্তর কোরিয়ায় ফিরে যাওয়ার জন্য তার ব্যক্তিগত ট্রেনে বেইজিং ত্যাগ করেছেন’। 


সূত্র: এএফপি


এসজেড