বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) সাত শিক্ষার্থী অবকাঠামো উন্নয়নসহ তিন দফা দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেছেন। বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টা থেকে একাডেমিক ভবন-১ এর নিচতলায় তারা এই কঠোর কর্মসূচিতে অংশ নেন। শিক্ষার্থীদের দাবির যৌক্তিকতা মেনে নেওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় এই অনশন কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৌফিক আলম রাত ১টার দিকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন এবং দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন। তবে শিক্ষার্থীরা অনশন ভাঙতে রাজি না হলে তিনি তাদের পাশে রাত কাটানোর সিদ্ধান্ত নেন। মশারি টানিয়ে তিনি রাত কাটান অনশনস্থলে এবং সকাল ৯টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন।
অনশনকারী শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রাপ্ত জমি অধিগ্রহণ এবং শতভাগ পরিবহন সুবিধা নিশ্চিতকরণের দাবিতে তারা গত ৩৬ দিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। নানা কর্মসূচি শেষে অবশেষে তারা আমরণ অনশনে বসতে বাধ্য হয়েছেন।
শিক্ষার্থী শওকত ওসমান স্বাক্ষর বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমরা ন্যায্য দাবিতে আন্দোলন করছি। ইউজিসি কোনো ধরনের যোগাযোগ করেনি। বাধ্য হয়েই আমরণ অনশনের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।’
তাইজুল ইসলাম তাজ বলেন, ‘আমরা দুইবার সংবাদ সম্মেলন করেছি, ক্যাম্পাস সংলগ্ন নির্মাণাধীন স্থাপনাও দখল করেছি, কিন্তু তবুও কোনো সাড়া মেলেনি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. রাহাত হোসাইন ফয়সাল বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো যৌক্তিক। উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং জমি অধিগ্রহণের নানা ধাপও এগোচ্ছে। আস্থার অভাব থেকেই অনশনের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।’
এ বিষয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. রাহাত হোসাইন ফয়সার বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো যৌক্তিক। আমাদের উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান। জমি অধিগ্রহণের নানা ধাপ এগোচ্ছে।
অনশনকারী সাত শিক্ষার্থী হলেন:
- শারমিলা জামান সেঁজুতি (ইংরেজি বিভাগ)
- অমিয় মণ্ডল (গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, ২০২২-২৩)
- তাজুল ইসলাম (অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম, ২০২১-২২)
- মো. আবুবকর সিদ্দিক (রসায়ন বিভাগ, ২০২২-২৩)
- পিয়াল হাসান (দর্শন বিভাগ, ২০২১-২২)
- তামিম আহমেদ রিয়াজ (লোকপ্রশাসন বিভাগ, ২০২১-২২)
- শওকত ওসমান স্বাক্ষর (আইন বিভাগ, ২০২১-২২)
উল্লেখ্য, টানা ৩৭ দিনের আন্দোলনের পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় শিক্ষার্থীরা এই কঠোর কর্মসূচির পথে হাঁটেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
thebgbd.com/NA