২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ছাত্র-জনতার ওপর দমন-পীড়নের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে তৃতীয় দিনের মতো যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপন চলছে। এই যুক্তিতর্ক বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে।
আজ মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে দ্বিতীয় দিনের যুক্তিতর্ক চলমান রয়েছে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
এর আগে রোববার (১২ অক্টোবর) মামলার প্রথম দিনের যুক্তিতর্ক শুরু হয়। পরদিন সোমবার (১৩ অক্টোবর) দ্বিতীয় দিনের যুক্তিতর্কও বিভিন্ন গণমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
এর আগে গত শনিবার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম জানান, ট্রাইব্যুনালের অনুমতি সাপেক্ষে যুক্তিতর্ক সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হলে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ থাকবে।
গত ৮ অক্টোবর মামলার ৫৪তম ও শেষ সাক্ষী, তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. আলমগীরের জেরা শেষ হয় ট্রাইব্যুনাল-১–এ।
এই ঐতিহাসিক মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন গণঅভ্যুত্থানে নিহত শহীদ আবু সাঈদের পিতা এবং অন্যান্য ভুক্তভোগী পরিবার। এছাড়া তারকা সাক্ষী হিসেবে ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও জুলাই আন্দোলনের অন্যতম নেতা নাহিদ ইসলাম এবং দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। মোট ৫৪ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন।
প্রসিকিউশনের পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এস এইচ তামীম শুনানি পরিচালনা করছেন। অন্য প্রসিকিউটররাও শুনানিতে উপস্থিত রয়েছেন। পলাতক আসামি শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করছেন। মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে রাজসাক্ষী হওয়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের পক্ষে শুনানি করছেন আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ।
গত ১০ জুলাই ট্রাইব্যুনাল-১ শেখ হাসিনা, কামাল ও মামুনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয়। একপর্যায়ে দোষ স্বীকার করে ঘটনার সত্যতা প্রকাশে রাজসাক্ষী হতে আবেদন করেন মামুন, যা ট্রাইব্যুনাল মঞ্জুর করে। এরপর ৩ আগস্ট থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়ে ৮ অক্টোবর শেষ হয়।
মামলার প্রাথমিক তদন্ত করেন তদন্ত সংস্থার উপ-পরিচালক মো. জানে আলম খান। পরে তদন্তের দায়িত্ব পান উপ-পরিচালক মো. আলমগীর। তাকে সহযোগিতা করেন বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা তানভীর হাসান জোহা। তদন্ত কর্মকর্তা আলমগীর চলতি বছরের ১২ মে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। এরপর ৩১ মে দেওয়া হয় সম্পূরক অভিযোগ এবং ১ জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়।
thebgbd.com/NA