জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী জুবায়েদ হোসাইনকে হত্যার এক মাস আগেই পরিকল্পনা করেছিলেন বর্ষা ও মাহির। প্রেমঘটিত টানাপোড়েন থেকেই এ হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সকালে সংবাদমাধ্যমকে জানান, ২৬ সেপ্টেম্বর থেকেই জুবায়েদকে হত্যার পরিকল্পনা শুরু হয়। মাহির ও তার দুই সহযোগী এ হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়। হত্যার জন্য তারা নতুন দুটি সুইচগিয়ার ছুরি সংগ্রহ করে। রোববার বিকেলে বর্ষার বাসায় টিউশনে যাওয়ার পথে জুবায়েদের সঙ্গে দেখা হয় মাহিরের। তখন কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে মাহির এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে জুবায়েদকে হত্যা করে।
ওসি বলেন, বর্ষা ও মাহিরের ৯ বছরের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু মাঝে আবার বর্ষা জুবায়েদের ওপর দুর্বল হয়ে পড়ে। এ সময় বর্ষা মাহিরকে না করে দেয়। এবং সে জুবায়েদেকে পছন্দ করে বলে জানায়। কিন্তু কিছুদিন পরই তার প্রেমিক মাহিরকে জানায়, জুবায়েদকে আর ভালো লাগে না। তখন জুবায়েদকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বর্ষা ও মাহির।
প্রাথমিকভাবে হত্যার পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করলেও পরে মাহির ও বর্ষাকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে সব সত্য। পুলিশ জানায়, ২৫ সেপ্টেম্বর থেকেই তারা জুবায়েদকে হত্যার ছক আঁকতে শুরু করেন।
ঘটনার পর বর্ষাসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। মামলার প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে, জুবায়েদের ময়নাতদন্ত শেষে সোমবার দুপুরে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে মরদেহ নিজ জেলার গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়।
thebgbd.com/NA