ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুট বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে উত্তেজনা নিয়ে সৃষ্ট উদ্বেগকে গুরুত্ব না দিয়ে তিনি তার বিশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, ‘কেবল’ মার্কিন প্রেসিডেন্টই মস্কো ও কিয়েভের মধ্যে শান্তি অর্জন করতে সক্ষম হবেন। ওয়াশিংটন থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।
ট্রাম্প জেলেনস্কির সঙ্গে উত্তেজনাপূর্ণ আলোচনার জন্য অভ্যর্থনা জানানোর ক’দিন পরই ওয়াশিংটন সফরে আসা রুট, দিনের শেষের দিকে হোয়াইট হাউসে তার নিজের অবস্থানের আগে ক্যাপিটল হিলে আইন প্রণেতাদের সঙ্গে দেখা করেন।
ওয়াশিংটনে ট্রাম্প-জেলেনস্কির আলোচনাকে ‘বিপর্যয়ের’ ইঙ্গিত দেয় কিনা জানতে চাইলে রুট ‘না’ সূচক জবাব দেন এবং সেটিকে ‘একটি সফল বৈঠক’ আখ্যা দেন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ট্রাম্পকে রাশিয়ার প্রতি তার অবস্থান নমনীয় করতে রাজি করিয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে রুট বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর আমার পূর্ণ আস্থা আছে, তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি এটি সম্পন্ন করতে পারেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখানে ট্রাম্পের নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি স্পষ্টতই এটি প্রদান করছেন। তাকে সকল নেতার সঙ্গে সংলাপ করতে হয়েছে। তাকে পুতিনের সঙ্গে সংলাপ করতে হয়েছে, তাকে জেলেনস্কির সঙ্গেও সংলাপ করতে হয়েছে।’
রিপাবলিকান সিনেটর থোম টিলিস, রুটের পাশাপাশি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন, তিনি বলেন, ইউক্রেনকে দূরপাল্লার টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে এখনও আলোচনা চলছে। টমাহক এমন একটি অস্ত্র যা দিয়ে কিয়েভ রাশিয়ার অভ্যন্তরে নির্ভুল হামলা চালাতে সক্ষম হবে।
সংবাদ সম্মেলনের পর টিলিস এএফপিকে বলেন, ‘ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করা তাৎপর্যপূর্ণ হবে, যদি অন্য কোনও কারণে না হয় তবে আমরা সকলেই তাদের ক্ষমতা ও তাদের নাগাল কী তা জানি। একটি কৌশলগত সুবিধা থাকতে পারে যা সম্ভবত কৌশলগত সুবিধার বাইরেও যেতে পারে।’
জেলেনস্কি গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পর সাঙ্গে দেখা করেন, তবে ওই বৈঠককে একজন জ্যেষ্ঠ ইউক্রেনীয় কর্মকর্তা ‘উত্তেজনাপূর্ণ’ বলে অভিহিত করে বলেছেন, কিয়েভকে টমাহক সরবরাহের কোনও ঘোষণা না দিয়েই বৈঠকটি শেষ হয়। আলোচনা ‘সহজ ছিল না’ বলে উল্লেখ করেন ইউক্রেনীয় কর্মকর্তা।
এদিকে, ট্রাম্পের কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বুদাপেস্টে পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করার কথা ছিল। কিন্তু মঙ্গলবার সেই পরিকল্পনা বাতিল করে ট্রাম্প বলেন, তিনি ‘অকার্যকর’ বৈঠক চান না। হোয়াইট হাউসের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ‘অদূর ভবিষ্যতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের কোনো পরিকল্পনা নেই।’
ট্রাম্প ইউক্রেন শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য পুতিনের সঙ্গে ব্যক্তিগত রসায়নের ওপর নির্ভর করেছেন, তবে তিনি রুশ নেতার আচরণে বারবার হতাশ হয়েছেন।
সূত্র: এএফপি
এসজেড