ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ভার্জিনিয়ার স্মৃতিকথার ৫টি বিষয়

২০১৫ সালে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করে তার পরিবারের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ায় চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
  • অনলাইন ডেস্ক | ২৩ অক্টোবর, ২০২৫
ভার্জিনিয়ার স্মৃতিকথার ৫টি বিষয় ভার্জিনিয়া গিফ্রে

যৌন কেলেংকারিতে দোষী জেফ্রি এপস্টাইনের প্রধান অভিযোগকারী ভার্জিনিয়া গিফ্রের লেখা ‘নোবডি’স গার্ল’ বিক্রি শুরু হওয়ার একদিন পর গতকাল বুধবার অ্যামাজনের সর্বাধিক বিক্রির তালিকার শীর্ষে স্থান পেয়েছে। লন্ডন থেকে এএফপি এ খবর জানায়।


ডোনাল্ড ট্রাম্প গিফ্রেকে শিশু পরিচর্যার চাকরি দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া থেকে শুরু করে ব্রিটেনের প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ভার্জিনিয়ার জীবন সম্পর্কে জানার মতো পাঁচটি বিষয় এখানে রয়েছে:


প্রিন্স অ্যান্ড্রু


ভার্জিনিয়াকে অ্যান্ড্রুর সঙ্গে যৌন সম্পর্কের জন্য তিনবার পাচার করা হয়। তার মধ্যে মাত্র ১৭ বছর বয়সে দু’বার। এই কেলেংকারির জন্য স্মৃতিকথায় গত সপ্তাহে রাজপুত্রকে তার পদবি ত্যাগ করতে হয়েছে।


প্রথমবারের ঘটনাটি ঘটে ২০০১ সারের ১০ মার্চ। ভার্জিনিয়া স্মরণ করেন, যখন রাজপুত্র তার বয়স সঠিকভাবে অনুমান করেন, তার বয়স ১৭ বছর। তখন তিনি বলেন, ‘আমার মেয়েরা তোমার থেকে একটু ছোট।’ তিনি আরও স্মরণ করেন, সেই রাতে তার পোশাক, একটি গোলাপী ক্রপ-টপ টি-শার্ট এবং তার ‘প্রতিমা’ ব্রিটনি স্পিয়ার্স এবং ক্রিস্টিনা আগুইলেরা দ্বারা অনুপ্রাণিত বহু রঙের জিন্স পেন্ট বেছে নেন।


এপস্টাইন যখন ভার্জিনিয়ার কোমরে হাত দিয়ে অ্যান্ড্রুর অশ্লীল ছবি তুলেন, তখন তিনি এই পোশাকটি পরেছিলেন। যা পরে রাজপুত্রের পতনে ভূমিকা পালন করে। ভার্জিনিয়া স্মরণ করেন, তার বাবা রিয়েল এস্টেট মোগল বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার পরিচয় করিয়ে দেন। তিনি ২০০০ সালের গ্রীষ্মে ফ্লোরিডার ট্রাম্পের মার-এ-লাগো রিসোর্টে লকার-রুম পরিচারকের চাকরি দেন। তখন তিনি ১৬ বছর বয়সী।


তিনি বলেছেন, স্মৃতিকথায় উল্লেখিত তাদের একমাত্র সাক্ষাতে ট্রাম্প ‘এর চেয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ হতে পারতেন না’ এবং তিনি তাকে তার বন্ধুদের জন্য বেবিসিটার হিসেবে কাজ করার প্রস্তাব দেন। ভার্জিনিয়া লিখেছেন, অভিজাত শ্রেণির সন্তানদের কথা মাথায় রেখে, ‘শিগগিরই সপ্তাহে কয়েক রাত অতিরিক্ত অর্থ উপার্জন করেছি’।


রহস্যময় রাজনীতিবিদ


রাজনীতিবিদের পরিচয় নিয়ে অসঙ্গতি রয়েছে এমন এক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে ভার্জিনিয়া বলেছেন, ওই ব্যক্তি তাকে রাতে ‘নির্বিচারে ধর্ষণ’ করেছে, কিন্ত প্রতিশোধের ভয়ে তিনি তার নাম প্রকাশ করেননি। 


স্মৃতিকথার যুক্তরাজ্যের সংস্করণে তিনি তার জীবনের ভয় এবং ‘সাবেক মন্ত্রী’র ধর্ষণের ফলে জ্ঞান হারানো পর্যন্ত শ্বাসরোধের বর্ণনা দিয়েছেন। কিন্তু বইয়ের মার্কিন সংস্করণে, পূর্ববর্তী আদালতের ফাইলগুলোর প্রতিফলন ঘটে। তিনি তার নির্যাতনকারীকে ‘প্রধানমন্ত্রী’ হিসাবে বর্ণনা করেছেন। মার্কিন প্রকাশক নফের কাছে এএফপি’র অনুরোধ সত্ত্বেও এই অসঙ্গতির কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। 


গর্ভপাত


২০০১ সালের গ্রীষ্মে এপস্টাইন, অ্যান্ড্রু এবং আরও আটজন মেয়ের সঙ্গে একটি যৌনমিলনে অংশগ্রহণের কিছুদিন পরেই ভার্জিনিয়াকে নিউইয়র্কের একটি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। তখন তার বয়স ১৭ বছর। কিন্তু এপস্টাইন তার বয়স সম্পর্কে কর্মীদের কাছে মিথ্যা বলেন। যখন তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়, তখন তিনি তাকে জানান, তার গর্ভপাত হয়েছে। 


একটি অনুচ্ছেদে ভার্জিনিয়া লিখেছেন, এপস্টাইন ‘কখনও কনডম ব্যবহার করেননি।’ তিনি এবং ম্যাক্সওয়েল যারা ‘আমাকে পাচার করেন’ তারাও কনডম ব্যবহার করেননি। ‘আমি গর্ভবতী হয়ে পড়ি এবং এমনকি এটা না জেনেও আমার ভ্রূণ হারিয়েছি। এই বিষয়টি আমাকে মেনে নিতে হয়েছে’। 


ভার্জিনিয়া ২০০২ সালে রবার্ট গিফ্রের সঙ্গে তার বিয়েকে তার জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। যার সঙ্গে থাইল্যান্ডে তার দেখা হয়। যখন তিনি ম্যাসেজ পার্লারে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন। এটি একটি ‘নতুন অস্তিত্ব’ যার সঙ্গে মানিয়ে নিতে তিনি মাঝে মাঝে সংগ্রাম করেন। 


এপস্টাইন পরবর্তী জীবন


ভার্জিনিয়া ২০০৯ সালে এপস্টাইনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেন। পরবর্তী বছরগুলোতে তিনি লিখেছেন, তিনি হয়রানির শিকার হন। যার মধ্যে তার কলোরাডোর বাড়ির বাইরে অজানা লোকদের দ্বারা ভয় দেখানোও ছিল এবং ‘প্রতি রাতে গুলিভর্তি রিভলবার রেখে ঘুমাতে যেতেন’। 


২০১৫ সালে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করে তার পরিবারের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ায় চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কারণ তিনি বিশ্বাস করেন, তারা বিপদে আছেন। এপস্টাইন সম্পর্কে জনসমক্ষে প্রকাশ করার অসুবিধা সত্ত্বেও ভার্জিনিয়া বলেন, তিনি তার কথা তুলে ধরেছেন। 


তিনি বলেন, তিনি ‘অন্যদের নির্যাতনকারীদের শাস্তি দেওয়া সহজ করতে’ চেয়েছিলেন এবং অ্যান্ড্রুর সঙ্গে তার বেশ কয়েক মিলিয়ন ডলারের সমঝোতা থেকে প্রাপ্ত তহবিল যৌন হয়রানির শিকারদের সাহায্য করার জন্য তার সংস্থাকে দেয়ার পরিকল্পনা করেন। 


ভার্জিনিয়া বলেছেন, ‘রাজ পরিবারের কিছু অর্থ কিছু ভালো কাজে বিতরণের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি’। তিনি আরও লিখেছেন, স্মৃতিকথায় কিছু অভিযুক্ত নির্যাতনকারীদের নাম না দেওয়ার মূল কারণ ছিল তার তিন সন্তানকে রক্ষা করা। তিনি লিখেছেন, ‘হয়তো ভবিষ্যতে এই পুরুষদের সম্পর্কে কথা বলতে প্রস্তুত থাকব। কিন্তু এখন নয়’। 


কিন্তু তিনি সেই নামগুলো আর প্রকাশ করতে পারেননি। ভার্জিনিয়া গত এপ্রিলে ৪১ বছর বয়সে আত্মহত্যা করেন।


সূত্র: এএফপি


এসজেড