দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোট কোয়াডের প্রস্তাবিত চুক্তি মেনে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে সুদানের আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)। বৃহস্পতিবার একটি বিবৃতিতে আরএসএফ জানায়, ‘মানবিক দৃষ্টিকোণ ও বেসামরিকদের সুরক্ষার স্বার্থে র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সের কোয়াড দেশগুলোর প্রস্তাবিত শান্তি চুক্তি মানবে।’
যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন জোট কোয়াডের সদস্য সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিশর এবং সৌদি আরব এই যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে মধ্যস্থতা করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আফ্রিকা উপদেষ্টা মাসাদ বুলোস জানান, আরএসএফ এবং সুদানের সামরিক বাহিনী দুই পক্ষই তিন মাসের শান্তিচুক্তিতে রাজি হয়েছে।
চুক্তিটি কার্যকর হলে আপাতত তিন মাসের জন্য বন্ধ থাকবে সংঘাত। খোঁজা হবে চলমান রাজনৈতিক সংকটের সমাধান। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি প্রতিপক্ষ সুদানের সামরিক বাহিনী। সম্পতি সুদানের সেনাপ্রধান আবদেল ফাতাহ আল-বুরহান বলেন, তার সেনারা ‘প্রতিপক্ষের পরাজয়ের’ জন্য অপেক্ষা করছে।
প্রসঙ্গত, গত দুই বছর ধরে সুদানের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘাতে জড়িয়ে আছে আরএসএফ। এরমধ্যে গত ২৬ অক্টোবর আরএসএফ উত্তর দারফুর প্রদেশের রাজধানী আল-ফাশের শহর দখল করে। পরে সেখানে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালায় তারা। এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ছে।
জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) জানিয়েছে, আরএসএফের যোদ্ধারা ১৮ মাসের অবরোধ শেষে সেনাবাহিনীকে কৌশলগত শহর এল-ফাশের থেকে বিতাড়িত করার পর কয়েকশ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর মধ্যে একটি হাসপাতালেই ৪৬০ জনকে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়াও সেখানে নির্বিচারে যৌন সহিংসতা, ত্রাণকর্মীদের ওপর হামলা, লুটপাট ও অপহরণের ঘটনা ঘটছে।
সূত্র: রয়টার্স
এসজেড