ঢাকা | বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশে বিক্রি করতে না পেরে পেঁয়াজের 'শবযাত্রা’ ভারতে!

চলতি বছরে বাংলাদেশে গত কয়েক বছরের তুলনায় রেকর্ড পরিমাণ পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে। সরকারি সংস্থাগুলোর দাবি, দেশে পেঁয়াজের কোনো ঘাটতি নেই। কৃষকদের স্বার্থ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার এ বছর পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রাখে। আর এই সিদ্ধান্তের বিরূপ প্রভাব সর্বাধিক পড়েছে ভারতের মধ্যপ্রদেশের মান্দাসৌর এলাকায়। দাম না পাওয়ায় এবং বড় ক্রেতা বাংলাদেশকে হারিয়ে সেখানকার কৃষকরা তাদের ফসলের প্রতীকী ‘অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া’ আয়োজন করেছেন।
  • নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৫ ডিসেম্বর, ২০২৫
বাংলাদেশে বিক্রি করতে না পেরে পেঁয়াজের 'শবযাত্রা’ ভারতে! ছবি : সংগৃহীত।

চলতি বছরে বাংলাদেশে গত কয়েক বছরের তুলনায় রেকর্ড পরিমাণ পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে। সরকারি সংস্থাগুলোর দাবি, দেশে পেঁয়াজের কোনো ঘাটতি নেই। কৃষকদের স্বার্থ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার এ বছর পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রাখে। আর এই সিদ্ধান্তের বিরূপ প্রভাব সর্বাধিক পড়েছে ভারতের মধ্যপ্রদেশের মান্দাসৌর এলাকায়। দাম না পাওয়ায় এবং বড় ক্রেতা বাংলাদেশকে হারিয়ে সেখানকার কৃষকরা তাদের ফসলের প্রতীকী ‘অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া’ আয়োজন করেছেন।


বাংলাদেশের বাজারে যখন নতুন দেশি পেঁয়াজের জোগান স্বস্তি ফেরাচ্ছে, তখন সীমান্তের ওপারে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ উল্টো। মধ্যপ্রদেশের মান্দাসৌরে পেঁয়াজের দাম নেমেছে ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে— কেজিপ্রতি মাত্র দুই রুপি, তবুও নেই ক্রেতা। ক্ষুব্ধ কৃষকরা রাস্তায় পেঁয়াজের বস্তা ফেলছেন, এমনকি প্রতীকী শেষকৃত্যও আয়োজন করছেন। তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশের রপ্তানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ তৈরি হয়েছে, যার ফলে দাম ধসে পড়েছে।


বাংলাদেশের মাঠে অবশ্য চিত্র ইতিবাচক। মৌসুমের শুরু থেকেই নতুন পেঁয়াজে ভালো দামের আশা করছেন দেশের কৃষকেরা। সামনে আসছে মুড়িকাটা পেঁয়াজের সরবরাহ, যা রবি মৌসুমের মোট উৎপাদনের প্রায় ৭০ শতাংশ দিয়ে থাকে। এর ফলে তিন থেকে পাঁচ মাস বাজার স্থির থাকে। পাশাপাশি খারিফ-১ মৌসুমের পেঁয়াজ যুক্ত হয়ে সারা বছরই দেশীয় জোগান বজায় থাকে, ফলে আমদানির প্রয়োজন কমে গেছে।


ভারতীয় গণমাধ্যম ইকোনমিক টাইমস জানায়, আগে ভারতের মোট পেঁয়াজ রপ্তানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ যেত বাংলাদেশে। এবার সেই দরজা বন্ধ। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ায় এবং কৃষকের স্বার্থে আমদানি বন্ধ রাখা হয়েছে। এর ফলে ভারতের পাইকারি বাজারে বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ পচে যাচ্ছে।


ভারতীয় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো দাবি করছে, রপ্তানি বন্ধ থাকাই বর্তমান সংকটের মূল কারণ। অন্য দিকে বাংলাদেশের কৃষকেরা আশাবাদী যে দেশীয় উৎপাদনেই অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করে বাজারকে স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হচ্ছে।


সূত্র: ফ্রি প্রেস জার্নাল


thebgbd.com/NA