ঢাকা | বঙ্গাব্দ

পাক-আফগান সীমান্তে উত্তেজনা

অক্টোবরে সংঘর্ষে ৭০ জনের বেশি নিহত ও শতাধিক আহত হন। সেই সময় কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় একটি শান্তিচুক্তি হয়।
  • অনলাইন ডেস্ক | ০৬ ডিসেম্বর, ২০২৫
পাক-আফগান সীমান্তে উত্তেজনা পাকিস্তান আফগানিস্তান দ্বন্দ্ব।

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী উত্তেজনাপূর্ণ এলাকায় শুক্রবার রাতে গোলাবর্ষণ ও সংঘর্ষ ঘটেছে। এই ঘটনার জন্য উভয় পক্ষই একে অপরকে অভিযুক্ত করেছে। উভয় পক্ষ থেকেই বিনা উস্কানিতে হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে, আর এই ঘটনা সীমান্তে পূর্বেই বিদ্যমান তীব্র উত্তেজনাকে আরও উস্কে দিয়েছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।


আফগানিস্তানের তালেবান সরকার জানিয়েছে, পাকিস্তানি বাহিনী কান্ধাহার প্রদেশের স্পিন বোলদক এলাকায় হামলা চালায়। তালেবান মুখপাত্র জাবিহ উল্লাহ মুজাহিদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে, আজ রাতেই পাকিস্তানি বাহিনী আফগানিস্তানে হামলা শুরু করে। ইসলামী আমিরাতের বাহিনী বাধ্য হয়ে জবাব দিয়েছে।’ তবে, এ সময় তিনি এই সংঘর্ষ সম্পর্কে বিস্তারিত কোন তথ্য প্রকাশ করেননি।


অপরদিকে, পাকিস্তান সরকার শনিবার সকালে অভিযোগ করে বলেছে, আফগান তালেবান বাহিনী সীমান্তে হামলা চালিয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মোশাররফ জায়েদি বলেন, ‘মাত্র কিছুক্ষণ আগে আফগান তালেবান সরকার সীমান্তে বিনা উস্কানিতে আমাদের ওপর গোলাবর্ষণ শুরু করে। আমাদের সশস্ত্র বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে এই হামলার উপযুক্ত জবাব দিয়েছে।’


সীমান্তবর্তী এলাকার স্থানীয়রা এএফপিকে জানিয়েছেন, এই সংঘর্ষ রাত ১০টা ৩০ মিনিটে শুরু হয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা চলেছে। এ সময় ব্যাপক গোলাবর্ষণ করা হয়। কান্দাহারের তথ্য বিভাগের প্রধান আলি মুহাম্মদ হাকমাল দাবি করেন সংঘর্ষের সময়ে পাকিস্তানি বাহিনী ‘হালকা ও ভারী অস্ত্র’ ব্যবহার করে এবং মর্টারের গোলা বেসামরিক নাগরিকদের বাড়িতেও আঘাত করেছে। তিনি আরও বলেন, ‘সংঘর্ষ শেষ হয়েছে এবং উভয় পক্ষই সংঘাত বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’


প্রাথমিকভাবে এই সংঘর্ষে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী চামান শহরে অবস্থানরত এএফপি সংবাদদাতা বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পেয়েছেন। আফগানিস্তান ও পাকিস্তান ২০২১ সালে তালেবান সরকার কাবুলে ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে নিরাপত্তা সমস্যা ও সীমান্ত বিতর্ক নিয়ে ক্রমবর্ধমান তিক্ত সম্পর্কের মধ্যে রয়েছে। 


ইসলামাবাদ অভিযোগ করে আসছে যে কাবুল পাকিস্তানি তালেবান (টিটিপি) ও অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে আশ্রয় দিচ্ছে, আর এরা পাকিস্তানে হামলা চালায়। তালেবান সরকার বরাবরই পাকিস্তানের এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। অক্টোবরে সংঘর্ষে ৭০ জনের বেশি নিহত ও শতাধিক আহত হন। সেই সময় কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় একটি শান্তিচুক্তি হয়। তবে দোহা ও ইস্তানবুলে একাধিক দফা আলোচনা হলেও স্থায়ী কোন সমাধান হয়নি। 


আফগানিস্তান সম্প্রতি অভিযোগ করেছে, প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের বিমান হামলায় সীমান্ত এলাকায় ১০ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ৯ জন শিশু। ইসলামাবাদ আফগানিস্তানের এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সীমান্তবর্তী নিরাপত্তা ও উভয় দেশের মধ্যে আস্থা পুনঃস্থাপনের অভাব, এই ধরনের সংঘর্ষের মূল কারণ।


সূত্র: এএফপি


এসজেড