ভেনিজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো গত বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে তার নিজের নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদকটি তুলে দিয়েছেন।
নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ট্রাম্পের সঙ্গে তার দূরত্ব কাটাতে মাচাদো এই পদক্ষেপ নেন। ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে। এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, এ পুরস্কার তার পাওয়া উচিত ছিল।
জানুয়ারি ৩ তারিখে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে মাদুরোকে আটক করার পরও ট্রাম্প মাচাদোকে সমর্থন দেননি। বরং তিনি মাদুরোর ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে সমর্থন করছেন। শর্ত একটাই, ওয়াশিংটনের নির্দেশ মেনে চলা, বিশেষ করে ভেনেজুয়েলার বিপুল তেল সম্পদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা।
হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ শেষে ক্যাপিটল হিলে সাংবাদিকদের মাচাদো বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের হাতে নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদকটি তুলে দিয়েছি।’ ৫৮ বছর বয়সী এই নেতা জানান, এটি ছিল ‘আমাদের স্বাধীনতার প্রতি তার অনন্য অঙ্গিকারের স্বীকৃতি।’ তবে ট্রাম্প পদকটি রেখেছেন কি-না, তা স্পষ্ট নয়।
নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি অবশ্য জানিয়েছে, এই পুরস্কার অন্য কাউকে হস্তান্তর করার নিয়ম নেই। গত বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার জেতার জন্য ট্রাম্প জোর প্রচারণা চালান। তিনি দাবি করেন, আটটি যুদ্ধ থামানোর প্রচেষ্টার জন্য এ পুরস্কার তার প্রাপ্য। কিন্তু পুরস্কার যায় মাচাদোর হাতে। গত মাসে তিনি নরওয়ের অসলোতে পুরস্কার গ্রহণ করেন। ভেনিজুয়েলা থেকে নৌপথে পালিয়ে এসে মাচাদো অনুষ্ঠানে যোগ দেন এবং তখনই তিনি পুরস্কারটি ট্রাম্পকে উৎসর্গ করেন।
ভেনিজুয়েলার বিরোধীরা অভিযোগ করেছে, মাদুরো ২০২৪ সালের নির্বাচন কারচুপি করেছেন। মাচাদোর দলের প্রার্থী এডমুন্ডো গঞ্জালেস উরুতিয়ার জয় কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ওয়াশিংটনও তাদের এ দাবি প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। তবে ট্রাম্প বলেন, মাচাদোর জনসমর্থন যথেষ্ট নয়। তাই তিনি মাদুরোর সাবেক ঘনিষ্ঠ রদ্রিগেজকে বেছে নিয়েছেন।
দীর্ঘদিন মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার আন্দোলন চালানো মাচাদো হোয়াইট হাউস থেকে বের হওয়ার সময় উল্লসিত জনতার অভ্যর্থনা পান। ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠক গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের আলোচনাকে আবার সামনে নিয়ে আসে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, মাচাদো ‘ভেনেজুয়েলার মানুষের জন্য এক সাহসী ও অসাধারণ কণ্ঠ।’ তবে ভেনিজুয়েলায় কবে নাগাদ নির্বাচন হতে পারে, সে বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন কোনো সময়সীমা জানায়নি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ভেনিজুয়েলার তেল বিক্রির প্রথম চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, এর মূল্য প্রায় ৫০ কোটি ডলার। তবে ক্রেতার নাম প্রকাশ করা হয়নি। রদ্রিগেজ তার ভাষণে তেল খাতে আইনি সংস্কারের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। বর্তমানে বিদেশি অংশগ্রহণ সীমিত। তবে তিনি বিস্তারিত জানাননি।
সূত্র: এএফপি
এসজেড