ভারতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপ নিয়ে সুরাহার জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সর্বশেষ আইসিসির স্বাধীন ডিসপিউট রেজোল্যুশন কমিটির (ডিআরসি) কাছে চিঠি দেয়। সেখানে তারা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় সরানোর অনুরোধ করেছে। তবে বিষয়টি আইসিসির এই সংস্থার এখতিয়ারের বাইরে হওয়ায় বিসিবির আবেদন শুনানিতে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা পিটিআই।
পিটিআইয়ের খবরে বলা হয়, আইসিসি একদিকে স্কটল্যান্ডকে ‘স্ট্যান্ডবাই’ রেখেছে, অন্যদিকে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বে বোর্ড চূড়ান্ত চাপে পড়ে শেষ চেষ্টা হিসেবে ডিআরসির কাছে গেছে। ডিআরসির প্রধান ইংল্যান্ডের মাইকেল বেলফ (কিংস কাউন্সেল)।
পিটিআইকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিসিবির একটি সূত্র বলেছে, ‘হ্যাঁ, বিসিবি আইসিসির ডিআরসির কাছে গেছে, কারণ তারা সব বিকল্প শেষ পর্যন্ত ব্যবহার করতে চায়। ডিআরসি যদি বিসিবির বিপক্ষে রায় দেয়, তাহলে এরপর যে একমাত্র সংস্থার কাছে যাওয়ার সুযোগ থাকে, তা হলো সুইজারল্যান্ডের কোর্ট অব আর্বিট্রেশন ফর স্পোর্টস (সিএএস)।’
মূলত ক্রিকেটারদের ‘নিরাপত্তাজনিত কারণে’ দল ভারতে যাবে না বলে ঘোষণা দেয় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
এ সময় সরকারের ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ নজরুলও একই অবস্থান তুলে ধরেন।
তবে আইসিসির সংবিধান এবং ডিআরসির ‘টার্মস অব রেফারেন্স’ দেখলে বোঝা যায়, আইসিসি বোর্ড অব ডিরেক্টরসের নেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল শোনার ক্ষমতা ডিআরসির নেই। এমনটাই লিখেছে পিটিআই।
পিটিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়নের পর আইসিসি বোর্ড অব ডিরেক্টরস ১৪-২ ভোটে বাংলাদেশের ম্যাচ ভারতে রাখার পক্ষে সিদ্ধান্ত দেয়। ওই মূল্যায়নে নিরাপত্তা ঝুঁকিকে ‘কম থেকে মাঝারি’ বলা হয়েছিল।
এদিকে ডিআরসির টার্মস অব রেফারেন্সের ১.৩ ধারায় বলা আছে, ‘এই কমিটি আইসিসি বা আইসিসির স্মারকলিপি ও সংঘবিধি কিংবা আইসিসির কোনো নিয়ম-কানুনের অধীনে গঠিত কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল সংস্থা হিসেবে কাজ করবে না।’
আইসিসি বোর্ডের একটি সূত্র পিটিআইকে বলেছে, ‘বাংলাদেশ ডিআরসির কাছে যেতে পারে, কিন্তু নিয়ম দেখলে বোঝা যায়, মামলাটি শোনাই যাবে না, কারণ বোর্ড অব ডিরেক্টরসের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল শোনার এখতিয়ার এই কমিটির নেই।’
খবরে আরও বলা হয়, অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ উপলক্ষে নামিবিয়ায় থাকা আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ এখন দুবাইয়ে আছেন এবং শনিবারের মধ্যে বাংলাদেশের বদলে কোন দল খেলবে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে আইসিসির ভেতরের অসন্তোষের কথাও এসেছে।
এক সূত্র বলেছে, ‘আইসিসি বোর্ড সদস্যরা আমিনুল ইসলাম বুলবুলের ওপর খুব ক্ষুব্ধ, কারণ বৈশ্বিক সংস্থাকে জানানোর আগেই সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছিল। আসিফ নজরুল আইসিসির কাছে গ্রহণযোগ্য কোনো ব্যক্তি নন, কিন্তু বুলবুলের উচিত ছিল আইসিসিকে সিদ্ধান্ত জানানোর আগে সংবাদ সম্মেলন না হতে দেওয়া।’
আইসিসির ডিআরসি ব্রিটিশ আইন অনুসারে কাজ করে। পিটিআই উল্লেখ করেছে, ২০১৮ সালে বেলফের নেতৃত্বাধীন ডিআরসি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের করা ৭ কোটি ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবিও সরাসরি খারিজ করেছিল। সে সময় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড দাবি করেছিল, পাকিস্তানে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে চুক্তি মানেনি বিসিসিআই। ডিআরসি রায়ে বলেছিল, দুই বোর্ডের মধ্যে যেটিকে ‘মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ বলা হয়েছিল, সেটি আসলে বাধ্যতামূলক চুক্তি নয়; এটি ছিল ‘লেটার অব ইনটেন্ট’, যা বিসিসিআইয়ের জন্য বাধ্যতামূলক নয়।
পিটিআইয়ের খবরে বলা হয়, ডিআরসি সাধারণত দেখে আইসিসি বোর্ড আইন ও নিয়ম ঠিকভাবে অনুসরণ করেছে কি না। এটি কোনো আপিল ট্রাইব্যুনাল নয়।
কমিটির সদস্যদের মধ্যে মাইকেল বেলফ ছাড়াও রয়েছেন মাইক হেরন (কিংস কাউন্সেল), বিচারপতি উইনস্টন অ্যান্ডারসনসহ আরও কয়েকজন আইন বিশেষজ্ঞ ও স্বাধীন প্রতিনিধি। তালিকায় বিভিন্ন অঞ্চলের আইনজীবী, নৈতিকতা কর্মকর্তা, অডিট কমিটির চেয়ারম্যান এবং ব্যবস্থাপনা সহায়তাকারী সদস্যও আছেন।
thebgbd.com/NIT