ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ন্যাটো সেনাদের নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য ‘অপমানজনক’

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আফগানিস্তানে নিহত ৪৫৭ জন ব্রিটিশ সেনার মধ্যে ৪০৫ জন সরাসরি শত্রু বাহিনীর হামলায় প্রাণ হারান।
  • অনলাইন ডেস্ক | ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬
ন্যাটো সেনাদের নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য ‘অপমানজনক’ কিয়ার স্টারমার।

‘আফগানিস্তান যুদ্ধে ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর সেনারা সামনের সারির লড়াই এড়িয়ে চলত’- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন মন্তব্যকে ‘অপমানজনক’ বলে কড়া সমালোচনা করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। ট্রাম্পের এই মন্তব্য ঘিরে যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের দেশগুলোতে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। লন্ডন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।


বৃহস্পতিবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, ন্যাটোর মিত্র দেশগুলো আফগানিস্তানে কিছু সেনা পাঠায় ঠিকই, কিন্তু তারা সম্মুখ সমর থেকে একটু দূরে বা পেছনে থাকত। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর আফগানিস্তান যুদ্ধে যে ৪৫৭ জন ব্রিটিশ সেনা প্রাণ হারান, ট্রাম্পের কথায় সেই তথ্যের কোনো প্রতিফলন পাওয়া যায়নি। ট্রাম্প এটাও ইঙ্গিত দিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনে ডাকলে ন্যাটো দেশগুলো হয়তো এগিয়ে আসবে না। অথচ ৯/১১ হামলার পর ন্যাটোর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এবং একমাত্র যৌথ প্রতিরক্ষা ধারা কার্যকর করে যুক্তরাজ্য ও বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধে যোগ দেয়। 


এক ভিডিও বার্তায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, ‘শুরুতেই আমাদের সেই ৪৫৭ জন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই, যারা আফগানিস্তানে জীবন উৎসর্গ করেছেন। অনেকে আহত হয়েছেন, অনেকের জীবন চিরতরে বদলে গেছে। আমি মনে করি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই মন্তব্য আপত্তিকর এবং অত্যন্ত ভয়াবহ। এই মন্তব্য নিহত ও আহতদের স্বজনদের মনে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছে।’


স্টারমার বলেন, তিনি নিজে এমন ভুল কথা বললে অবশ্যই ক্ষমা চাইতেন। তবে হোয়াইট হাউস স্টারমারের এই সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে প্রেসিডেন্টের পক্ষ নিয়েছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেলর রজার্স এক বিবৃতিতে এএফপিকে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শতভাগ ঠিক বলেছেন। জোটের অন্য সব দেশ মিলে ন্যাটোর জন্য যা করেছে, যুক্তরাষ্ট্র একা এর চেয়ে অনেক বেশি করেছে।’


পোল্যান্ডের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিস্লাভ কোসিনিয়াক-কামিজ বলেন, তিনি পোলিশ বীর যোদ্ধাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন আশা করেন। আফগানিস্তানে পোল্যান্ডের ৪৩ জন সেনা প্রাণ হারিয়েছেন। ফ্রান্সের সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক মন্ত্রী ক্যাথরিন ভট্যুরিন জানান, ন্যাটোর হয়ে সেখানে ৯০ জন ফরাসি সেনা নিহত এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন।


যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি এই ব্রিটিশ সেনাদের ‘বীর’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক মন্ত্রী আল কার্নস, যিনি নিজেই আফগানিস্তানে পাঁচবার দায়িত্ব পালন করেছেন, ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘পুরোপুরি হাস্যকর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনোক বলেন, ট্রাম্পের কথাগুলো পুরোপুরি ভিত্তিহীন, যা ন্যাটো জোটকে দুর্বল করতে পারে।  


এমনকি ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের সমর্থক ও রিফর্ম ইউকে পার্টির নেতা নাইজেল ফারাজও তার সমালোচনা করে বলেছেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প ভুল বলছেন। ২০ বছর ধরে আমাদের বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের পাশে থেকে বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করেছে।’ আফগানিস্তানে নিহত উইলিয়াম অলড্রিজের মা লুসি অলড্রিজ জানান, ট্রাম্পের এই মন্তব্য অত্যন্ত পীড়াদায়ক। 


রয়্যাল ব্রিটিশ লিজিয়নের মহাপরিচালক মার্ক অ্যাটকিনসন বলেন, বৃটিশ সেনাদের ত্যাগ নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগ নেই। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আফগানিস্তানে নিহত ৪৫৭ জন ব্রিটিশ সেনার মধ্যে ৪০৫ জন সরাসরি শত্রু বাহিনীর হামলায় প্রাণ হারান। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র হারিয়েছে ২ হাজার ৪০০-এর বেশি সৈন্য। ২০০১ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত দেড় লাখেরও বেশি ব্রিটিশ সেনা আফগানিস্তানে নিয়োজিত ছিল, যা সংখ্যার দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।


সূত্র: এএফপি


এসজেড