পাকিস্তান জানিয়েছে, সাম্প্রতিক আত্মঘাতী হামলার জেরে তারা প্রতিবেশী আফগানিস্তানে জঙ্গি লক্ষ্যবস্তুতে একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে। তবে আফগান সরকার বলেছে, এসব হামলায় নারী ও শিশুসহ ডজনখানেক বেসামরিক মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন। আফগানিস্তানের বিহসুদ থেকে এএফপি জানায়, অক্টোবর মাসে সীমান্ত সংঘর্ষে উভয়পক্ষে ৭০ জনের বেশি নিহত হওয়ার পর এটিই সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান।
ইসলামাবাদ জানায়, সীমান্তবর্তী সাতটি স্থানে হামলা চালানো হয়েছে, যেখানে আফগানভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো অবস্থান করছিল। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, পাকিস্তানি তালেবান (টিটিপি), তাদের সহযোগী এবং ইসলামিক স্টেট গোষ্ঠীর একটি শাখাকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়। আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, নানগারহার ও পাকতিকা প্রদেশে একটি মাদ্রাসা ও আবাসিক বাড়িতে হামলায় ‘নারী ও শিশুসহ ডজনখানেক নিরীহ বেসামরিক মানুষ শহীদ ও আহত হয়েছেন।’
নানগারহারের বিহসুদ জেলায় অবস্থানরত এক এএফপি সাংবাদিক জানান, দুর্গম পার্বত্য এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারকর্মীদের সঙ্গে যোগ দিয়ে একটি গ্রামে ধ্বংসস্তূপের নিচে মরদেহ খুঁজতে খননযন্ত্র ও কোদাল ব্যবহার করছেন। প্রতিবেশী আমিন গুল আমিন (৩৭) বলেন, ‘এখানকার মানুষ সাধারণ মানুষ। তারা আমাদের আত্মীয়স্বজন। বোমা হামলার পর একজন জীবিত ব্যক্তি সাহায্যের জন্য চিৎকার করছিল।’
নানগারহার পুলিশের মুখপাত্র সাইয়েদ তাইয়েব হাম্মাদ বলেন, মধ্যরাতের দিকে গোলাবর্ষণ শুরু হয়ে তিনটি জেলায় আঘাত হানে। তিনি জানান, একটি বাড়িতে ২৩ জন পরিবারের সদস্য ছিলেন; সেখান থেকে পাঁচজন আহতকে উদ্ধার করা হয়েছে। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পাকিস্তানের হামলার ‘উপযুক্ত ও পরিকল্পিত জবাব’ দেওয়া হবে।
২০২১ সালে তালেবান পুনরায় ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকেই দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমেই তিক্ত হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘের আফগানিস্তান মিশনের তথ্যমতে, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে পাকিস্তানি সামরিক অভিযানে ৭০ জন আফগান বেসামরিক নিহত হন। কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি এবং কয়েক দফা আলোচনা হলেও স্থায়ী সমাধান আসেনি। চলতি মাসে সৌদি আরবের মধ্যস্থতায় অক্টোবরের সংঘর্ষে আটক তিন পাকিস্তানি সেনাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
দুই দেশের অবনতিশীল সম্পর্কের প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপরও পড়েছে; স্থল সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরে প্রায় বন্ধ রয়েছে। পাকিস্তান অভিযোগ করেছে, বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও তালেবান কর্তৃপক্ষ আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানে হামলা চালানো জঙ্গিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি। আফগান সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
দুই সপ্তাহ আগে ইসলামাবাদের একটি শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ৪০ জন নিহত ও ১৬০ জনের বেশি আহত হওয়ার পর পাকিস্তান এই অভিযান চালায়। ২০০৮ সালের পর ইসলামাবাদে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা। হামলার দায় স্বীকার করে ইসলামিক স্টেট। এছাড়া গত মাসে কাবুলের একটি রেস্তোরাঁয় সংঘটিত আত্মঘাতী হামলার দায়ও ইসলামিক স্টেট-খোরাসান শাখা স্বীকার করে।
সূত্র: এএফপি
এসজেড