ভারতের বোম্বে হাইকোর্ট ৯০ বছর বয়সী এক নারীর দায়ের করা মানহানির মামলার শুনানি ২০ বছর পিছিয়ে দিয়েছে। আদালত বলেছে, এই মামলা মূলত ‘অহংকারের লড়াই’ এবং এটি বিচার ব্যবস্থাকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে ব্যাহত করছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ তথ্য জানিয়েছে। মঙ্গলবার বিচারপতি জিতেন্দ্র জৈন-এর একক বেঞ্চ এই নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন, ৯০ বছর বয়সী তারিণীবেন এবং ৫৭ বছর বয়সী ধ্বনি দেশাইসহ সংশ্লিষ্টদের এই আইনি বিরোধ ‘বিচার ব্যবস্থাকে অচল করে দিচ্ছে’। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, মামলাটির পরবর্তী শুনানি ২০৪৬ সালের পর কোনো এক তারিখে তালিকাভুক্ত করা হবে। ২০১৭ সালে দায়ের করা এই মামলাটি ২০১৫ সালে একটি কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটির বার্ষিক সাধারণ সভায় ঘটে যাওয়া ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত। বাদীপক্ষের অভিযোগ, ওই ঘটনার কারণে তারা মানসিক হয়রানির শিকার হয়েছেন এবং ২০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।
বিচারপতি জৈন বলেন, জীবনের শেষ প্রান্তে এসে বাদী-বিবাদীদের মধ্যে অহংবোধের লড়াই বিচার ব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত করছে। ফলে আদালত প্রকৃত গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোতে মনোযোগ দিতে পারছে না। তিনি আরও স্পষ্ট করেন, শুধুমাত্র বাদী একজন প্রবীণ নাগরিক হওয়ায় মামলাটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া যাবে না। আদালত পূর্বে ক্ষমা চাওয়ার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির পরামর্শ দিয়েছিল। তবে বাদীপক্ষ মামলাটি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় আদালত এ ধরনের কঠোর অবস্থান নেয়।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৯ সালে আদালত বাদীদের প্রয়োজনীয় নথি ও সাক্ষীর তালিকা জমা দেওয়ার সময় দিয়েছিল। ২০২৩ সালেও উপস্থিত না থাকলে মামলা খারিজের সতর্কতা দেওয়া হয়েছিল। তবুও মামলার অগ্রগতি না হওয়ায় তা দীর্ঘায়িত হতে থাকে। সব মিলিয়ে, বিচার ব্যবস্থার ওপর অপ্রয়োজনীয় চাপ কমাতে আদালত এই ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে করছেন আইন বিশ্লেষক।
thebgbd.com/NIT