ঢাকা | বঙ্গাব্দ

বিরিয়ানি ও তরমুজ খাওয়ার পর পরিবারের ৪ সদস্যের মৃত্যু

  • অনলাইন ডেস্ক | ৩০ এপ্রিল, ২০২৬
বিরিয়ানি ও তরমুজ খাওয়ার পর পরিবারের ৪ সদস্যের মৃত্যু ফাইল ছবি

ভারতের মুম্বাই শহরে একই পরিবারের চার সদস্যের রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তবে চিকিৎসকরা বলেছেন, ‘বিরিয়ানি খেয়ে তরমুজ খাওয়ার কারণে মৃত্যু’—এমন ধারণার কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ মুম্বাইয়ের ফাইদোনিয়া এলাকায় ২৫ এপ্রিল রাতে পরিবারের ৯ সদস্য একসঙ্গে খাবার খান। এরপর গভীর রাতে, আনুমানিক ১টা থেকে ১টা ৩০ মিনিটের মধ্যে পরিবারের চার সদস্য তরমুজ খান। এরপর ভোরের দিকে তারা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। একই সঙ্গে শুরু হয় বমি, ডায়রিয়া ও চরম দুর্বলতা। খবর দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের।


আক্রান্তদের দ্রুত স্যার জেজে হসপিটালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রথমে ছোট মেয়েটি সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে মারা যায়। এরপর রাতের দিকে পরিবারের কর্তা, পরে স্ত্রী ও বড় মেয়েও মারা যান। মৃতরা হলেন আবদুল্লাহ দোখাদিয়া (৪০), নাসরিন দোখাদিয়া (৩৫) এবং এই দম্পতির দুই মেয়ে আয়েশা (১৬) ও জয়নাব (১৩)।


ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে ‘খাদ্যে বিষক্রিয়া’ সন্দেহ করা হলেও, ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না। পুলিশ ইতোমধ্যে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে।


এদিকে চিকিৎসকরা এই ঘটনায় ছড়িয়ে পড়া নানা গুজব উড়িয়ে দিয়েছেন। কামা অ্যান্ড আলব্লেস হাসপাতালের চিকিৎসক তুষার পালভি বলেন, ‘বিরিয়ানি খাওয়ার পর তরমুজ খেলে মৃত্যু হতে পারে—এমন কোনও চিকিৎসাবিজ্ঞানসম্মত প্রমাণ নেই। বরং এখানে বিষাক্ত বা রাসায়নিক উপাদানের সংস্পর্শে আসার সম্ভাবনাই বেশি।’



চিকিৎসকদের মতে, তরমুজ দূষিত হতে পারে যদি সেটি কেটে দীর্ঘ সময় খোলা অবস্থায় রাখা হয়, অপরিষ্কার ছুরি দিয়ে কাটা হয়, বা দূষিত পানিতে ধোয়া হয়। এছাড়া কিছু অসাধু বিক্রেতা ফলকে ‘তাজা’ দেখাতে চিনি মিশ্রিত পানি ইনজেকশন দিতে পারে, যা ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়।



বিশেষজ্ঞরা জানান, সাধারণ খাদ্যে বিষক্রিয়ায় বমি, ডায়রিয়া, পেটব্যথা ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দিলেও তা সাধারণত প্রাণঘাতী হয় না। তবে এই ঘটনায় উপসর্গের তীব্রতা ও দ্রুত অবনতির ধরণ স্বাভাবিক খাদ্যে বিষক্রিয়ার সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না।



স্যার জেজে হসপিটালের সুপারিনটেনডেন্ট ডা. সঞ্জয় সুরাজ বলেন ‘রোগীদের অবস্থা যেভাবে দ্রুত খারাপ হয়েছে, তা সাধারণ খাদ্যে বিষক্রিয়ার মতো নয়। এতে অন্য কোনও বিষাক্ত বা রাসায়নিক উপাদান জড়িত থাকতে পারে।’



অন্যদিকে চিকিৎসকরা স্পষ্ট করে বলেছেন, রাতে তরমুজ খাওয়াও ক্ষতিকর নয়। ডা. আনিকেত মুলে জানান, ‘দিন বা রাত তরমুজ খাওয়ার সময়ের সঙ্গে গুরুতর অসুস্থতা বা মৃত্যুর কোনও সম্পর্ক নেই।’



বিশেষজ্ঞরা সবাইকে সতর্ক করে বলেছেন, ফলমূল ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার পরিবেশে কাটতে হবে এবং দীর্ঘ সময় খোলা অবস্থায় রাখা খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। পাশাপাশি চূড়ান্ত ফরেনসিক রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত কোনও গুজবে কান না দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।


thebgbd.com/NIT