গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ৪ রাউন্ড ফাঁকা সাউন্ড গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটায়। এ ঘটনায় কয়েকজন পুলিশ সদস্যসহ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পৃথক অভিযানে মোট ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাতে টঙ্গী পূর্ব থানার কেরানীরটেক এলাকায় চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী রুনা বেগমের বাসার সামনে ডিবি পুলিশ অভিযান পরিচালনা করলে ১০-১২ জন ব্যক্তি অতর্কিতভাবে পুলিশের ওপর হামলা চালায়।
এতে ডিবি দক্ষিণ বিভাগের সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ আছাবুর রহমানের টিমের দুই সদস্য গুরুতর আহত হন। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ ৪টি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ঘটনাস্থল থেকে ৭ জনকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মো. শাহীন (৩৬), মো. সোহেল (২৮), মো. রায়হান (১৯), রওশন আরা (৩০), সুমি আক্তার (২৪), নূরজাহান (৫৩) ও বিউটি আক্তার (৫৬)। পলাতক আসামি হিসেবে রয়েছেন রুনা আক্তার ওরফে রুনা বেগম (৩৮)।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বেলায়েত হোসাইন জানান, একই ধারাবাহিকতায় টঙ্গী পশ্চিম থানার মাজার বস্তি ও আশপাশের এলাকা থেকে আরও ২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কেরানীরটেক বস্তিতে ডিবি দক্ষিণের সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ আছাবুর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানের সময় কয়েকজন নারী মাদক ব্যবসায়ীকে শনাক্ত করা হয়। তাদের তল্লাশি করতে গেলে দুর্বৃত্তরা চারদিক থেকে পুলিশকে ঘিরে ফেলে এবং আটক ব্যক্তিদের ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে চারজন পুলিশ সদস্যসহ কয়েকজন আহত হন। পরে ৪টি ফাঁকা সাউন্ড গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পলাতক মূল আসামি রুনা বেগম পালিয়ে গেলেও তার বোন রওশন আরাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পূর্বের মামলাসহ অন্যান্য বিষয় যাচাই করা হচ্ছে।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, গাজীপুরে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আদালতে সাক্ষ্য প্রদান না করলে তারা আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ার সুযোগ পায়। অনেক আসামি একাধিক মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও আবার অপরাধে ফিরে আসে।
তিনি উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট এলাকায় প্রায় ২১টি মহল্লা ও কয়েকটি বস্তিতে মাদক ও ছিনতাই কার্যক্রম বেশি দেখা যায়। এসব স্থানে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ছিন্নমূল মানুষের বসবাস বেশি হওয়ায় অপরাধীদের আলাদা করে শনাক্ত করা একটি চ্যালেঞ্জ বলেও তিনি জানান।
বেলায়েত হোসাইন বলেন, পুলিশ কোনো দলীয় বিবেচনায় কাজ করে না। অপরাধে জড়িত যেকোনো ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে এবং আদালতের মাধ্যমেই বিচার নিশ্চিত করা হবে।
এছাড়া, টঙ্গী পশ্চিম থানার হাজী মাজার বস্তি এলাকায় পরিচালিত পৃথক অভিযানে আরও ২১ জন মাদক ব্যবসায়ী ও সেবীকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
thebgbd.com/NIT