ক্যাচ ধরার পর বলের ওপর ফিল্ডারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকলেই সেটিকে আউট বলে স্বীকৃতি দেওয়ার নিয়ম রয়েছে ক্রিকেটে। ওই অবস্থায় বল মাটিতে ছোঁয়ানোর সুযোগ নেই। কিন্তু আইপিএলে গুজরাট টাইটান্সের ক্যারিবীয় তারকা জেসন হোল্ডার ক্যাচ ধরার পরই বল মাটিতে স্পর্শ করলেও সেটিকে আউটের সিদ্ধান্ত দেওয়ায় বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রায় একই ধরনের ঘটনায় এর আগে নটআউট দেওয়ার নজির রয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে।
বেশ আলোচনার জন্ম দেওয়া ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল আইপিএলে গুজরাট বনাম রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর ম্যাচে। যেখানে প্রথম ইনিংসের অষ্টম ওভারে ব্যাট করছিলেন বেঙ্গালুরু অধিনায়ক রজত পাতিদার। তিনি আরশাদ খানের শর্ট লেন্থের একটি বলে পুল শট খেলতে গিয়ে ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে ক্যাচ তুলে বসেন। সেটি তালুবন্দি করতে ছুটে যান গুজরাটের দুই বিদেশি তারকা হোল্ডার ও কাগিসো রাবাদা। দক্ষিণ আফ্রিকান তারকা কোনোমতে দুজনের সংঘর্ষ এড়িয়ে পাশ দিয়ে নিচু হয়ে যান। অন্যদিকে, হোল্ডার ক্যাচ ধরে উঠে দাঁড়ানোর সময় বল ধরা হাত মাটিতে স্পর্শ করেন। যদিও বল পুরোপুরি মাটি ছুঁয়েছে কি না সেটি অস্পষ্ট!
টিভি আম্পায়ার সেটিকে বৈধ ক্যাচ বলে রায় দেন। গুজরাট যখন উল্লাসে মেতেছে, তখন বেঙ্গালুরু তারকা বিরাট কোহলি ও কোচ অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারকে সীমানা দড়িতে দাঁড়িয়ে ম্যাচ অফিসিয়ালের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। যেখানে কোনোভাবেই আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত নিয়ে সন্তুষ্ট মনে হচ্ছিল না তাদের। যার সমালোচনা করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষক ও ধারাভাষ্যকাররাও। নতুন এই বিতর্ক নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে উঠে এসেছে ২০২৩ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডসে অস্ট্রেলিয়ান তারকা মিচেল স্টার্কের ধরা একটি ক্যাচের প্রসঙ্গ।
ওই টেস্টে ইংলিশ ওপেনার বেন ডাকেটের ফাইন লেগ অঞ্চলে তোলা একটি ক্যাচ ধরে মাটিতে ডাইভ দেন স্টার্ক। তিনি যখন স্লাইড দিচ্ছিলেন তখন মাটির সঙ্গে বল ঘষা খাওয়ার দৃশ্য ছিল স্পষ্ট। অস্ট্রেলিয়া সেটিকে আউট বলে গণ্য করলেও আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত ছিল ভিন্ন, নটআউট। পরবর্তীতে এমসিসি ক্রিকেটীয় আইনের ৩৩.৩ ধারা মোতাবেক সেই প্রসঙ্গে ব্যাখ্যা দিয়ে জানায়, তখন ক্যাচ সম্পন্ন বলে বিবেচিত হবে, যখন ফিল্ডারের বল এবং এর নড়াচড়ার ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে। স্টার্ক যখন মাটিতে স্লাইড করছেন, তখন বল মাঠের সঙ্গে সংযোগ হচ্ছিল। অর্থাৎ, এর ওপর অজি তারকার পুরো নিয়ন্ত্রণ নেই। প্রায় একই ধরনের হওয়ায় হোল্ডারের ক্যাচটিরও ফলাফলও ভিন্ন হওয়ার কথা নয়!
ইএসপিএন ক্রিকইনফোর আলোচনায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক বোলার ও ধারাভাষ্যকার ইয়ান বিশপ সেই ক্যাচ নিয়ে কথা বলেছেন। তার মতে মাটিতে বল স্পর্শ করেছে কি না তা দ্বিতীয়বার ভালোভাবে দেখা যেত। যাতে হোল্ডারের হাত সত্যিকার অর্থে বলের নিচে অবস্থান করছে নাকি তাতে ব্যবধান আছে তা নিশ্চিত হতে পারত সবাই। বিশপ বলেন, ‘আমার মতে বল ও মাটির অবস্থান নিয়ে এখানে সন্দেহ আছে, কারণ স্লাইড বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আপনার শরীরের ওপর আপনার কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না।’
সাবেক ভারতীয় অধিনায়ক অভিনব মুকুন্দও স্টার্কের ক্যাচ নিয়ে দেওয়া এমসিসির ব্যাখ্যা যুক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে একজন ফিল্ডার উঠে দাঁড়ানোর জন্য বলের ওপর নির্ভর করলে, সেটিকে পরিপূর্ণ ক্যাচ বলা যাবে না। মুকুন্দ বলছেন, ‘যদি বল কোনোভাবে মাটি স্পর্শ করে সেটি আউট হবে না। আপনি সম্পূর্ণ ফিট একজন আন্তর্জাতিক অ্যাথলেট, উঠে দাঁড়ানোর জন্য আপনার বল কিংবা হাতের ওপর নির্ভর করার প্রয়োজন নেই।’
thebgbd.com/NIT