ঢাকা | বঙ্গাব্দ

দেশে ফেরা নিয়ে বড় ঘোষণা সাকিবের

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | ০১ মে, ২০২৬
দেশে ফেরা নিয়ে বড় ঘোষণা সাকিবের ফাইল ছবি

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে সাকিব আল হাসান আর দেশে ফিরতে পারেননি। মাগুরা-২ আসনে আওয়ামী লীগ সরকারের সংসদ সদস্য হওয়ায় তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ বেশ কিছু আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। এরপর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের সঙ্গে থাকলেও টাইগার সাবেক বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের ফেরার বিষয়টি বারবার আলোচিত হয়েছে।  


দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে থাকা ৩৯ বছর বয়সী সাকিব অবশেষে তার দেশে ফেরার সময়সীমা নিয়ে মুখ খুলেছেন। সম্প্রতি ভারতের মুম্বাইয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ 'ইইউ টি-টোয়েন্টি বেলজিয়াম ২০২৬'-এর জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠানে গিয়ে ‘স্পোর্টস্টার’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ সব সমস্যার সমাধান করে তিনি বাংলাদেশে ফিরতে পারবেন।

দেশে ফেরার বিষয়ে সাকিব বলেন, 'আমি আশাবাদী যে বছরের শেষ দিকে সবকিছুর সমাধান হয়ে যাবে। আপাতত ভালো কিছুর প্রত্যাশা করছি। তবে একটা বিষয় নিশ্চিত—আমাকে বাংলাদেশে ফিরতেই হবে। প্রশ্ন শুধু এটাই যে কত দ্রুত তা ঘটতে পারে। তবে আমি আশাবাদী যে বছরের শেষ দিকে ফিরতে পারব। কিভাবে ঘটবে জানি না। তবে আমি সত্যিই আশাবাদী।’


গত জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে হঠাৎ করেই মামলার সুরাহা করে সাকিবকে আবার দেশের ক্রিকেটে ফেরানোর উদ্যোগ নেয় বিসিবি। সাকিবের আইনজীবীদের কাছ থেকে মামলার কাগজপত্র নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কাছেও পাঠিয়েছিল আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বোর্ড। এরপর থেকেই বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডারের দেশে ফেরা নিয়ে বেশ আলোচনা হয়েছিল। 


সেই সময়ে বিসিবি কর্মকর্তারা এমনও বলেছিলেন যে, মার্চে পাকিস্তান সিরিজ দিয়েই জাতীয় দলে ফিরতে পারেন সাকিব। কিন্তু বাস্তবে সে সম্ভাবনা দেখা যায়নি। সাকিব আল হাসানের দেশে ফেরা নিয়ে অনেকবার গুঞ্জন শোনা গেলেও কোনোটাই শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি। এবার তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন বোর্ড গঠন হওয়ার পর থেকে আবারও আলোচনায় সাকিবের ফেরা। 


সাকিব জানিয়েছেন, আগের বোর্ডের সঙ্গে ফেরার বিষয়ে কথা হলেও সত্যিকার অর্থে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। বলেন, ‘আগের বোর্ড সত্যিই আমাকে ফেরানোর ইচ্ছে প্রকাশ করেছিল। কিন্তু মুখে বলা আর সেটাকে বাস্তবায়িত করা—দুটির মধ্যে অনেক পার্থক্য থাকে। এখনও আমি শুনি যে সবাই আমাকে ফেরাতে চায়। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো—সত্যিকার অর্থে কেউ তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়নি।’


এদিকে, সাকিবের দেশে ফেরা নিয়ে মিরপুরে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের মুখোমুখি হন বিসিবির বর্তমান অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল। তিনি সাকিবের পাশাপাশি মাশরাফি বিন মর্তুজা ও নাঈমুর রহমান দুর্জয়ের প্রসঙ্গও টেনে আনেন। বলেন, 'সাকিবকে নিয়ে যেমন আলোচনা হচ্ছে, আমাদের আরও দুই সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি ও দুর্জয় ভাইও একই অবস্থায় আছেন। তাদের নিয়েও ভাবা উচিত।'


সাকিবের ফেরার ব্যাপারে তামিম স্পষ্ট করে বলেন, ‘ওর যে বিষয়টা আছে, ক্রিকেটিং যেকোনো সুযোগ-সুবিধার জন্য আমাদের দুয়ার সবসময় খোলা। আইনগত বিষয়গুলো আমাদের মন্ত্রী (যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী) মহোদয় দেখছেন, তারা নমনীয় হওয়ার কথা বলেছেন। আইনি সমস্যা সমাধান করে তারা ফিরলে আমরা তাদের দুই হাত বাড়িয়ে স্বাগত জানাব।’


উল্লেখ্য, বাংলাদেশের হয়ে সর্বশেষ ম্যাচ ২০২৪ সালের অক্টোবরে খেলেছেন সাকিব। ভারতের বিপক্ষে কানপুর টেস্টের পর আর কখনো খেলা হয়নি ৩৯ বছর বয়সী এই বাঁহাতি ব্যাটারের। পরে অনেকবারই জানিয়েছেন, দেশের মাটিতে পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলে অবসর নিতে চান তিনি। বছরের শেষ দিকে ফিরতে পারলে সেই ইচ্ছা পূরণ হওয়ার পথ প্রশস্ত হতে পারে।



তাই সাকিবের এই ঘোষণার পর ক্রিকেট ভক্তদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে বছরের শেষ নাগাদ প্রিয় চত্বর মিরপুরে ফিরতে পারেন কি না এই পোস্টার বয়।


thebgbd.com/NIT