ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ভারতে এক লাফে গ্যাসের দাম বাড়ল প্রায় ১০০০ রুপি

  • অনলাইন ডেস্ক | ০১ মে, ২০২৬
ভারতে এক লাফে গ্যাসের দাম বাড়ল প্রায় ১০০০ রুপি ফাইল ছবি

ভারতে হঠাৎ করেই গ্যাসের দামে বড় ধাক্কা লেগেছে। দেশটিতে এক লাফে বাণিজ্যিক এলপিজির দাম বেড়েছে প্রায় ১ হাজার রুপি। আর এতে করে রেস্তোরাঁ, হোটেলসহ ব্যবসায়িক খাতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বৈশ্বিক তেলের বাজারে অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনার প্রভাবেই এই মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে। আর এর চাপ ধীরে ধীরে ভোক্তাদের ওপরও পড়তে পারে। আর তাই গ্যাসের দামের উল্লম্ফনের এই প্রভাব কোথায় গিয়ে ঠেকবে, উঠেছে সেই প্রশ্নও।


ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বলছে, ভারতে বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের দাম আবারও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। দিল্লিতে এখন ১৯ কেজির একটি সিলিন্ডারের দাম দাঁড়িয়েছে ৩,০৭১.৫০ রুপি। গত মাসের দাম বৃদ্ধির পরও নতুন করে আবারও দাম বাড়ানো হলো। আর এই মূল্য বৃদ্ধির পেছনে রয়েছে বৈশ্বিক তেলের বাজারে অস্থিরতা এবং ভারতের নিজস্ব মূল্য নির্ধারণ কৌশল।


ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, এই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ হলো আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ধারাবাহিকভাবে বেড়ে যাওয়া। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এখন ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১১১ ডলার, আর ডব্লিউটিআই ক্রুড ১০৫ ডলারের ওপরেই রয়েছে। এই পরিস্থিতির সঙ্গে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান অচলাবস্থা। এর ফলে হরমুজ প্রণালিতে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বেড়েছে। বিশ্বে ব্যবহৃত মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।


মূলত তীব্র উত্তেজনা এবং সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কার কারণে বৈশ্বিক তেলবাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এমনকি হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলের প্রবাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কাও দামের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। আর এটিও এলপিজির দাম বাড়ার অন্যতম কারণ।


আরেকটি চাপের কারণ হলো ওপেক জোটে অনিশ্চয়তা, বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত। বড় তেল উৎপাদক দেশ হিসেবে ইউএই উৎপাদন নিয়ন্ত্রণের সমন্বিত ব্যবস্থার বাইরে চলে গেলে সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা দুর্বল হতে পারে। এটি বাজারে আরও অনিশ্চয়তা তৈরি করছে এবং জ্বালানির দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।


অবশ্য বাণিজ্যিক এলপিজির দাম বাড়লেও পেট্রোল, ডিজেল এবং গৃহস্থালি কাজে ব্যবহৃত এলপিজি (১৪.২ কেজি) সিলিন্ডারের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। মূলত এগুলোর দাম স্থিতিশীল রাখলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সাধারণ মানুষের খরচ কম রাখা সহজ হয়।


তবে এর ফলে তেল বিপণন কোম্পানিগুলো পুরো খরচ নিজেরা বহন করতে পারছে না। মূলত রেস্তোরাঁ, হোটেল এবং ছোট ব্যবসাগুলো এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব বেশি অনুভব করছে, অথচ গৃহস্থালি ব্যবহারকারীরা আপাতত এর বাইরে রয়েছে।


ইন্ডিয়া টুডে বলছে, বাণিজ্যিক এলপিজির দাম বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়বে খাদ্যসেবা, হসপিটালিটি এবং ক্ষুদ্র উৎপাদন খাতে। এই খাতগুলো দৈনন্দিন কার্যক্রমে এলপিজির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় তাদের খরচ বেড়ে যাবে। আর এটি শেষ পর্যন্ত গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হতে পারে। এর ফলে বিশেষ করে রেস্তোরাঁ এবং স্ট্রিট ফুড খাতে খাবারের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।


thebgbd.com/NIT