‘আমার নাতনি বেড়াতে গিয়েছিল, পাষণ্ড কুলাঙ্গার সব শেষ করে দিল’; এভাবেই নাতনির জন্য কান্নাভেজা চোখে আহাজারি করছিলেন এক বৃদ্ধা। খালার বাড়ি বেড়াতে গিয়ে পাশবিকতার স্বীকার হয়ে হাসপাতালে কাৎরাচ্ছে ফুটফুটে এক শিশু।
কোনোকিছু বুজে উঠার আগেই সব শেষ হয়ে যায় শিশুটির। ঘটনাটি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় নিজামকান্দি গ্রামে ঘটেছে।
এ ঘটনায় শনিবার গভীর রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে অভিযুক্ত মুরসালিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি গোপালগঞ্জ পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার করপাড়া ইউনিয়নের বনগ্রাম গ্রামের ওই শিশু পার্শ্ববর্তী কাশিয়ানী উপজেলার নিজামকান্দি গ্রামে তার খালার বাড়িতে বেড়াতে যায়।
অভিযোগ উঠেছে, গ্রামের কালাম শেখের ২০ বছর বয়সী ছেলে মুরসালিন গত বৃহস্পতিবার দুপুরে গোসলের কথা বলে শিশুটিকে পাশের জঙ্গলে নিয়ে যায়। সেখানে তার সঙ্গে পাশবিকতা চালানো হয় বলে অভিযোগ পরিবারের। পরে শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে ওই রাতেই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অভিযুক্তের চাপে শুরুতে বিষয়টি গোপন রাখার সিদ্ধান্ত নেন আত্মীয়-স্বজনরা। তবে শনিবার রাতে শিশুটির নানী নেবা বেগম হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক চিকিৎসক জীবিতেশ বিশ্বাসকে বিষয়টি জানান। পরে তিনি পরিবারকে থানায় যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে শিশুটির নানী বলেন, আমার নাতনি আমার মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল, কিন্তু পাষণ্ড-কুলাঙ্গার সব শেষ করে দিল। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জিয়াউল হক জানান, শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে কাশিয়ানী থানায় এ ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়।
পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রোববার আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হবে।
thebgbd.com/NA