ঢাকা | বঙ্গাব্দ

৫ টাকার বিদ্যুতে বাইক চলে ১২০ কিলোমিটার!

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | ১১ মে, ২০২৬
৫ টাকার বিদ্যুতে বাইক চলে ১২০ কিলোমিটার! ছবি : সংগৃহীত।

দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের ঊর্ধ্বগতি আর পাম্পে দীর্ঘ লাইনের ভোগান্তিতে যখন সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস, ঠিক তখনই তাক লাগিয়ে দিয়েছেন ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার তরুণ উদ্ভাবক রতন মহন্ত। নিজের পুরোনো পেট্রোলচালিত বাইককে ব্যাটারিচালিত ইঞ্জিনে রূপান্তর করে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি। মাত্র ৫ টাকার বিদ্যুৎ খরচ করে এখন ১২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিচ্ছে তার এই 'স্বপ্নযান'।


রাণীশংকৈল পৌর শহরের মহলবাড়ী এলাকার সুরেন মহন্তের ছেলে রতন পেশায় একজন অটোভ্যান মেকানিক। নুন আনতে পান্তা ফুরানো সংসারে থেকেও তার উদ্ভাবনী চিন্তা থেমে থাকেনি। রতনের এই সাফল্য নিয়ে এলাকায় বইছে প্রশংসার জোয়ার।


জানা যায়, ২০১৯ সালে একটি পুরোনো ১০০ সিসি সুজুকি মোটরসাইকেল কেনেন রতন। কিন্তু যান্ত্রিক ত্রুটি আর জ্বালানি খরচের চাপে বাইকটি চালানো দায় হয়ে পড়েছিল। একপর্যায়ে তিনি সাহসী সিদ্ধান্ত নেন—ইঞ্জিন বদলে বাইকটিকে বৈদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তর করবেন। যেমন ভাবা তেমন কাজ; প্রচলিত ইঞ্জিন খুলে সেখানে বসান ১২ ভোল্টের চারটি ব্যাটারি এবং অটোরিকশার একটি মোটর।


রতন মহন্তের তৈরি এই বাইক এখন দিব্যি চলছে রাজপথে। এক চার্জে ১২০ কিলোমিটার চলতে এর বিদ্যুৎ খরচ হয় মাত্র ৫ টাকা, যেখানে সমদূরত্বে পেট্রোলচালিত বাইকের খরচ হয় প্রায় ৪০০ টাকা। অর্থাৎ, প্রচলিত খরচের তুলনায় এটি প্রায় ৮০ গুণ সাশ্রয়ী।


রতন মহন্ত বলেন, শুরুতে অনেকেই আমার পরিকল্পনা শুনে হাসাহাসি করেছিলেন। কিন্তু আমি হাল ছাড়িনি। আজ যখন তেলের অভাবে মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছে, তখন তারাই আমার কাছে এসে প্রশংসা করছেন। অনেকের বাইক এখন ব্যাটারিচালিত করে দেওয়ার প্রস্তাবও পাচ্ছি।


স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর ও নাজমুল বলেন, তেল সংকটের এই সময়ে রতনের বাইক আমাদের নতুন আশা দেখাচ্ছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পাম্পে দাঁড়িয়ে না থেকে যদি স্বল্প খরচে এভাবে চলা যায়, তবে তা সাধারণ মানুষের জন্য অনেক বড় পাওয়া।


রাণীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও প্রশাসক খাদিজা বেগম এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।


তিনি বলেন, রতনের সৃজনশীলতা বর্তমান জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে একটি সম্ভাবনাময় বিকল্প। এমন উদ্ভাবনী মেধাকে উৎসাহিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করব।


পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী এই প্রযুক্তি বাণিজ্যিকভাবে ছড়িয়ে দিতে পারলে তা দেশের জ্বালানি খাতের চাপ কমাতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


thebgbd.com/NA