ঢাকা | বঙ্গাব্দ

নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ

মহান মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেরণাকে সামনে রেখে ‘বাংলাদেশ জনরাষ্ট্র আন্দোলন’ নামে নতুন একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের আত্মপ্রকাশ হয়েছে।
  • অনলাইন ডেস্ক | ০৩ আগস্ট, ২০২৬
নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

মহান মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষা ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেরণাকে সামনে রেখে ‘বাংলাদেশ জনরাষ্ট্র আন্দোলন’ নামে নতুন একটি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের আত্মপ্রকাশ হয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর আহমেদ চৌধুরী হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়।

সর্দার আমিরুল ইসলাম সাগরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ৩৭ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে মুহাম্মদ উল্লাহ মধুকে সম্পাদক এবং ইকবাল হোসেইন সাম্য শাহকে মুখপাত্র করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন মুখপাত্র ইকবাল হোসেইন সাম্য শাহ। স্বাগত বক্তব্য দেন সম্পাদক মুহাম্মদ উল্লাহ মধু এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় সদস্য ক্যাপ্টেন রিদওয়ান সিকদার।

আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, দেশের সম্ভাবনার কেন্দ্রবিন্দু তারুণ্য। তরুণদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী এবং গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেন, রাজনীতিতে এখনো বিদেশি শক্তির প্রভাব ও হস্তক্ষেপের আশঙ্কা রয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলে গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

গণফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, ক্ষমতা ভোগের বিষয় নয়, এটি জনগণের সেবা ও তাদের প্রত্যাশা পূরণের মাধ্যম। বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক রাজনীতি থেকে বিদ্বেষ ও গালাগাল দূর করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইতিবাচক রাজনৈতিক ধারা গড়ে তুলতে তরুণদের সামনে নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করতে হবে।

জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মোহন রায়হান সংগঠনের লক্ষ্য ও আদর্শের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান। ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু অভিযোগ করেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর একটি গোষ্ঠী মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। অনুষ্ঠানে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মোহসিন রশিদও সংহতি প্রকাশ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে সর্দার আমিরুল ইসলাম বলেন, দেশে কার্যকর বিরোধী দলের শূন্যতা থেকেই এ রাজনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের অন্যায়-অনিয়ম, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধিসহ জনজীবনের বিভিন্ন সংকটের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলাই সংগঠনের প্রধান লক্ষ্য।

অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করে সম্পাদক মুহাম্মদ উল্লাহ মধু বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে। সরকারের কর্মকাণ্ডে অভ্যুত্থানের অর্জন একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর স্বার্থে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্বে ৩৭ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি প্রকাশ করা হয়। এতে সম্পাদক হিসেবে মুহাম্মদ উল্লাহ মধু এবং মুখপাত্র হিসেবে ইকবাল হোসেইন সাম্য শাহ দায়িত্ব পান। কমিটিতে ২১ জন সংগঠক ও ১৪ জন সদস্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

অনুষ্ঠানে জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেটিক পার্টির আহ্বায়ক নাঈম আহমেদ, সার্বভৌমত্ব আন্দোলনের প্রধান সংগঠক শামীম রেজা, জনজোট পার্টির সভাপতি মোজাম্মেল মিয়াজিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।