ঢাকা | বঙ্গাব্দ

যে চারটি গুণ দুনিয়া-আখিরাতকে সমৃদ্ধ করে

  • অনলাইন ডেস্ক | ০৩ আগস্ট, ২০২৬
যে চারটি গুণ দুনিয়া-আখিরাতকে সমৃদ্ধ করে প্রতীকী ছবি

মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় চাওয়া কী? কেউ সম্পদ চায়, কেউ সম্মান, কেউ নিরাপত্তা, কেউ মানসিক প্রশান্তি। বেশির ভাগ মানুষের ধারণা হলো, এগুলো পেতে অঢেল সম্পদের প্রয়োজন। অথচ বাস্তবতা হলো, অঢেল সম্পদের মালিককেও বিভিন্ন কারণে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত থাকতে হয়, আবার অল্প সম্পদের মানুষও কখনো কখনো পরম তৃপ্তিতে জীবন কাটাতে পারেন। তবে সব ক্ষেত্রে এমনটা হবে না। কারণ, প্রকৃত প্রশান্তি সম্পদে নয়; যে তা বেশি বা কম হলেই মানুষের জীবনে শান্তি চলে আসবে। বরং প্রকৃত প্রশান্তি দেওয়ার মালিক আল্লাহ। যা পেতে হলে তাঁকে খুশি করার বিকল্প নেই। আর তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য মুমিনকে অবশ্যই ঈমান ও উত্তম চরিত্র অর্জনের পাশাপাশি তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের পথে হাঁটতে হবে।


কিছু গুণ এমন আছে, যেগুলো অর্জন করা গেলে মুমিনের আর আফসোসের কিছু থাকে না। হাদিস শরীফে ইরশাদ হয়েছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘চারটি গুণ যদি তোমার মধ্যে থাকে, তবে দুনিয়ার যা-ই তোমার হাতছাড়া হোক না কেন, তাতে তোমার কিছু যাবে আসবে না। তা হলো, আমানত রক্ষা করা, সত্যবাদিতা, উত্তম চরিত্র এবং খাদ্য-উপার্জনে পবিত্রতা।’ (মুসনাদ আহমদ, তাবরানি)


এই চারটি গুণ অর্জন হয়ে গেলে ব্যক্তির হারানোর কিছু নেই। কারণ এগুলোই একজন মুমিনকে দুনিয়া ও আখিরাতের প্রকৃত সফলতার পথে পরিচালিত করে। নিম্নে বিষয়গুলো আরেকটু স্পষ্ট করা হলো;


আমানত রক্ষা করা : আমানত রক্ষা করা মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। মুমিন তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব, অঙ্গীকার, পদ, সময়, গোপন তথ্যসহ সব ধরনের আমানত রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করে। একজন মুমিনের পরিচয়ই হলো, সে কখনো আমানতের খেয়ানত করে না। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ দিচ্ছেন আমানতসমূহ তার হকদারদের কাছে পৌঁছে দিতে। আর যখন মানুষের মধ্যে ফয়সালা করবে তখন ন্যায়ভিত্তিক ফয়সালা করবে। নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদেরকে কতইনা সুন্দর উপদেশ দিচ্ছেন। নিশ্চয় আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।’ (সুরা নিসা, আয়াত :৫৮)

মানুষ তার জীবরে প্রতিটি পর্যায়ে যদি আমানত রক্ষা করে চলতে পারে, তাহলে সে বহু পাপ থেকে রক্ষা পেয়ে যায়। এর বিপরীত হলে, মানুষ এমন বহু পাপে লিপ্ত হয়ে যায়, (কোনো কোনো ক্ষেত্রে) যার গুনাহের ধারাবাহিকতা তার আমলনামায় যুগের পর যুগ লেখা হতে থাকে। 


সত্যবাদিতা : সত্য বলা অনেক সময় কঠিন হতে পারে, কিন্তু সেটিই শেষ পর্যন্ত মুক্তির পথ। মিথ্যা হয়তো সাময়িক লাভ এনে দেয়, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তা মানুষকে লাঞ্ছিত ও অস্থির করে তোলে। আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন, সত্য নেকির দিকে পরিচালিত করে আর নেকি জান্নাতে পৌঁছায়। আর মানুষ সত্যের উপর কায়েম থেকে অবশেষে সিদ্দীক-এর দরজা লাভ করে। আর মিথ্যা মানুষকে পাপের দিকে নিয়ে যায়, পাপ তাকে জাহান্নামে নিয়ে যায়। আর মানুষ মিথ্যা কথা বলতে বলতে অবশেষে আল্লাহর কাছে মহামিথ্যাচারী প্রতিপন্ন হয়ে যায়। (বুখারি, হাদিস : ৬০৯৪)


সত্যবাদী মানুষের অন্তর হালকা থাকে। তাকে মিথ্যা লুকাতে হয় না, অভিনয় করতে হয় না। এটাও মানুষের জীবনে প্রশান্তি আনার একটি মাধ্যম। 


উত্তম চরিত্র : এটি মানুষের ব্যক্তিত্ব ও আমলগুলোর মর্যাদা বৃদ্ধি করে। প্রকাশ্যে ও গোপনে নিজের পবিত্রতা রক্ষা করতে পারাও একটি গুরুত্বপূর্ণ ও কঠিন আমল। এ আমলের মর্যাদাও অনেক। রাসুল (সা.) বলেছেন, মিজানের পাল্লায় সচ্চরিত্রের চেয়ে ভারি কিছু নেই। (আবু দাউদ, হাদিস ৪৭৯৯)


হালাল উপার্জন ও পবিত্র খাবার : মহান আল্লাহর কাছে বান্দার দোয়া ও ইবাদত কবুল হওয়ার জন্য এটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘হে মুমিনগণ, আহার কর আমি তোমাদেরকে যে হালাল রিজিক দিয়েছি তা থেকে এবং আল্লাহর জন্য শোকর কর, যদি তোমরা তাঁরই ইবাদাত কর।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৭২)


মানুষের আমল ও ইবাদত কবুল হওয়ার সঙ্গে হালাল রিজিকের সম্পর্ক আছে। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র ও হালাল বস্তু ছাড়া গ্রহণ করেন না। (মুসলিম, হাদিস : ২২৩৬)


তাই প্রতিটি মানুষের উচিত, তার উপার্জন ও আহার সব সময় যেন পবিত্র ও হালাল হয়, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকা। মহান আল্লাহ সবাইকে এই চারটি গুণ অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমিন।