জুলাই আন্দোলনকারীদের ‘জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে এবং আন্দোলনবিরোধী ফেসবুক পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে সাইবার সুরক্ষা আইনে দায়ের করা মামলায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থী শারাফাত শারিক রোহানকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান এ আদেশ দেন। রোহান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ৫৪তম ব্যাচের (২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থী।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই বিশ্বজিৎ দেবনাথ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আসামিপক্ষ জামিন আবেদন করলেও আদালত তা নামঞ্জুর করে রোহানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার এসআই মানষ ভদ্র বৃহস্পতিবার রোহানকে আদালতে হাজির করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।
তিনি উসকানিমূলক ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া জামিন পেলে তিনি পলাতক হতে পারেন উল্লেখ করে সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে কারাগারে আটক রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়।
গত বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে জুলাই আন্দোলন নিয়ে অবমাননাকর পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক হল থেকে রোহানকে আটক করেন জাকসু, ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাকে উদ্ধার করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (নিরাপত্তা) মোহাম্মদ আবু সৈয়দ আশুলিয়া থানায় সাইবার সুরক্ষা আইনে রোহানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, রোহান গত ৫ আগস্ট ভোর ৪টার দিকে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাস প্রকাশ করেন। ওই স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক হলের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে হল ছাত্র সংসদের নেতারা তাকে আটক করে রাখেন। সংবাদ পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।