ঢাকা | বঙ্গাব্দ

জাতীয় কন্যাশিশু দিবস আজ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক | ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জাতীয় কন্যাশিশু দিবস আজ ফাইল ছবি


সন্তানকে ঘরের বাইরে পাঠালে নিরাপত্তাহীনতা বোধ করি। সংবাদপত্রে প্রতিদিন শিশুর ওপর নির্যাতনের তথ্য উঠে আসে। এসব দেখে দুশ্চিন্তা বাড়ে। ছোটবেলায় নানা ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি। তবে ভাবতাম সমাজটা একদিন শিশুর জন্য নিরাপদ হবে। এসব কথা বলছিলেন রাজধানীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী সুস্মিতা রহমান। 


আট বছর বয়সী কন্যাশিশুর অভিভাবক সুস্মিতা রহমানই নন, শিশুসন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন অনেক অভিভাবক। এমন পরিস্থিতিতে আজ বুধবার পালিত হচ্ছে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস। 



মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের গত জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত তথ্যে শিশুর ওপর সহিংসতার চিত্র উঠে এসেছে। আট মাসে দেশে মোট ৭০৯টি শিশু নির্যাতনের ঘটনার কথা বলা হয়েছে, যার মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি ঘটনা ধর্ষণ-সংক্রান্ত। এই সময়ে ২৭৭ কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে, যাদের মধ্যে একটি বড় অংশ ৭ থেকে ১২ বছর বয়সী। এ ছাড়া ১৩৯টি ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। বয়সভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৮ বছর বা তার কম বয়সী কন্যাশিশুর ক্ষেত্রে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ২৩৬টি।



কৈশোর ও শৈশবের সুরক্ষার ক্ষেত্রে এই আট মাসের পরিসংখ্যান অত্যন্ত করুণ বাস্তবতার ইঙ্গিত দেয়। এই সময়ে ২৫৪ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে। এর মধ্যে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ২৪ শিশুকে এবং ধর্ষণের চেষ্টাকালে প্রাণ গেছে চার শিশুর। শারীরিক নির্যাতনের কারণে মারা গেছে ৬৮ শিশু এবং পারিবারিক পরিবেশ বা গৃহে নির্যাতনের শিকার হয়ে নিহত হয়েছে আরও ৪৯ শিশু। এ ছাড়া নিখোঁজ হওয়ার পর ৩৬ শিশুর নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিশুর বিদ্যা অর্জনের পাশাপাশি সুরক্ষার আশ্রয় হওয়ার কথা, সেখানেও শিক্ষকের হাতে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৫৩ জন এবং যৌন হয়রানির মুখোমুখি হয়েছে ৩৮ শিশু। একই সঙ্গে বখাটেদের মাধ্যমে যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটেছে ৪৬টি। অন্যদিকে, বাসাবাড়িতে কর্মরত শিশু গৃহকর্মীরাও শারীরিক নির্যাতন, ধর্ষণ ও মর্মান্তিক মৃত্যুর শিকার হয়েছে। 



শিক্ষিকা ও ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীর অভিভাবক ফারহানা পারভীন জানান, গৃহ কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো জায়গায়ও শিশু নির্যাতনের শিকার হওয়া অভিভাবকদের প্রচণ্ড হতাশ করে। আইনি প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে অপরাধীরা ছাড় পেয়ে যাচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ বাড়ার পাশাপাশি সাইবার বুলিং ও যৌন হয়রানির ঝুঁকিও বেড়েছে, যা সন্তানদের সুরক্ষায় অভিভাবকদের সার্বক্ষণিক দুশ্চিন্তায় রাখছে।


একটি করপোরেট অফিসে কর্মরত কাজী মাহবুবা আফরোজ বলেন, নিজে নানা কারণে দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগ নিয়ে বেড়ে উঠেছি। দুই বছরের মেয়ের দিকে তাকালে প্রশ্ন জাগে–ওর সামনে কী ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে? কন্যাশিশু নয়, মানুষ হিসেবে ওকে বড় করতে চাই। কিন্তু যা যা ঘটছে চারপাশে, এসব নিয়ে শঙ্কিত।




thebgbd.com/BYB