ঢাকা | বঙ্গাব্দ

ভোটের আগেই জোট! লাভ না ক্ষতি?

আজ ২৯ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন।
  • নিজস্ব প্রতিবেদক | ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫
ভোটের আগেই জোট! লাভ না ক্ষতি? ছবি : সংগৃহীত।

আজ ২৯ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। এরই মধ্যে বিএনপির সমর্থন নিয়ে দলীয় প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক, নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না, গণ-সংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি ও গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর। এর বাইরে বাকি যেসব দল বিএনপির সঙ্গে কয়েক বছর ধরে যুগপৎ আন্দোলনে সক্রিয় ছিল, তাদের মধ্যে এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীক নিচ্ছেন।এছাড়া এ জোটে ৪ আসন পেয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম। বিজেপির চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ বিএনপি জোটে থেকে নির্বাচন করছেন নিজ দলের প্রতীকে ভোলা-১ আসন থেকে।


অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জোট বেঁধেছে। রয়েছে এলডিপি।জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)জামায়াতের সঙ্গে জোট বাধায় এ দল থেকে এরিমধ্যে কয়েকজন পদত্যাগ করেছেন। নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন। এর আগে গতকাল দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনুভা জাবিন, খালেদ সাইফুল্লাহ ও ফেনী-৩ আসনের জন্য মনোনীত দলটির প্রার্থী আবুল কাশেম পদত্যাগ করেন। এ ছাড়া জামায়াতের সঙ্গে আলোচনার পর থেকেই এনসিপির যুগ্ম সদস্য-সচিব মীর আরশাদুল হক ও সিনিয়র যুগ্ম সদস্য-সচিব তাসনিম জারা পদত্যাগ করেন।


ফলে রাজনীতির মাঠে ভোটের আগে জোটের শক্তি বৃদ্ধিতে বিএনপি ও জামায়াত দুটি প্রধান দলই বিভিন্ন হিসাবনিকাশ করছে। জোটে থেকে ভোটে অংশ নেওয়া এবং নির্বাচন পরবর্তী সরকারে জায়গা পাওয়ার আলোচনা সমান্তরালে চলছে।


গণঅধিকার পরিষদের নেতা নুরুল হক নূর বিবিসিকে বলেন,"নির্বাচন করাটাই কিন্তু এবার সংকট থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ নয়। নির্বাচনের পরেও এই দেশকে স্থিতিশীল রাখা, দেশের উন্নয়ন অগ্রগতি এবং সরকারের স্ট্যাবিলিটি ধরে রাখা একটা বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে"।


রাজনৈতিক মেরুকরণের এই পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্বাচন-ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য ড. আব্দুল আলীম বলেন, ‘যেসব দল বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটে ছিল, সেসব দলের কয়েকজন নেতার বিএনপিতে চলে আসার মূল কারণ হচ্ছে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ বা আরপিওতে সংযোজিত নতুন একটি বিধান। এতে বলা হয়েছে, দলগুলো জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করলেও নিজ নিজ দলের প্রতীকে নির্বাচন করতে হবে। এটা নির্বাচন-ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনেরও সুপারিশ ছিল। তার কারণটাও আমরা আমাদের সংস্কার কমিশন থেকে অনেকবার বলেছি, ব্যাখ্যা দিয়েছি; যদিও বিএনপিসহ অনেক দল এই বিধানে সম্মত ছিল না। এই বিধানটা প্রভাব ফেলে ছোট দলগুলোর ওপর। তারা দল ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিয়েছে। এতে এ বিষয়টি পরিষ্কার হয় যে বাংলাদেশের ভোটারদের কাছে প্রতীকটা গুরুত্বপূর্ণ। তারা প্রতীক দেখে ভোট দেয়। দ্বিতীয়ত, ছোট ছোট অনেক দল, সব দলের কথা বলব না, কিছু দল জনগণের কাছে নিজেদের সেভাবে উপস্থাপন করতে পারেনি বা উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছে। সে কারণে সেইসব দলের নেতারা বড় দলে যোগ দিয়ে সেই দলের প্রতীকে নির্বাচন করতে যাচ্ছেন নির্বাচনের জেতার জন্য।


রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জামায়াতেরও দিনদিন জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে এনসিপি হয়তো মনে করছে জামায়াতের সাথে নির্বাচনে না গেলে তাদের পরাজয় অবশ্যাম্ভাবী। তাই তারা গিয়েছে। এটি তাদের কৌশল হোক ও আদর্শগত মিল হোক দলের জন্মের অল্পদিনের মধ্যেই অনেকেই দলত্যাগ করেছেন। 


thebgbd.com/NA